• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৫, ১৬ শাবান ১৪৪০

অত্যাধুনিক ও ব্যস্ততম বন্দরে পরিণত হচ্ছে মোংলা বন্দর

বন্দরের উন্নয়নে গত সাড়ে ৯ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বেশকিছু মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, মোংলা (বাগেরহাট)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

image

নতুন নতুন ইক্যুপমেন্টস কন্টেইনার ইয়ার্ড আর যন্ত্রপাতি ও জল যান নিয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলছে মোংলা বন্দর। বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে ইমেজ সংকট কাটিয়ে দ্রুত অত্যাধুনিক ও ব্যস্ততম বন্দরের দিকে ধাবিত হচ্ছে এ বন্দর। এ বন্দরকে আরো চাঙ্গা করতে ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নাধীন রয়েছে অনেক মেঘা প্রকল্প আর গ্রহণ করা হয়েছে আরও বেশকিছু উদ্যোগ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর একেএম ফারুক হাসান বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে গত সাড়ে ৯ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বেশকিছু মেঘা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার লোড- আন লোড জেটি নির্মাণ, কন্টেইনার ইয়ার্ড ও সেড নির্মাণ, মোংলা ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা। মোংলা বন্দরকে আরও গতিশীল করতে ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। সংগ্রহ করা হয়েছে তেল-শোধন নৌযানসহ আধুনিক নৌযান। বন্দরের আমদানি রফতানি প্রতি বছরই বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন নির্গমন প্রতি নিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ-সুবিধা। যাতে মোংলা বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীরা আরও আগ্রহী হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদিচ্ছার কারণে এ বন্দরের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোংলা বন্দর বিশ্বের এক দ্রুততম বন্দরে পরিণত হবে। এ কারনে মোংলা-কোলকাতা ভায়া নোপাল, ভুটান রেললাইন নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বন্দরের সংযোগ সড়কগুলো যান জট মুক্ত রাখতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে বন্দরের যে উন্নয়ন না হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে গত সাড়ে নয় বছর।

মোংলা বন্দরের এখন নিজস্ব ড্রেজার রয়েছে। জেটিসহ চ্যানেলের নাব্যতা সংকট দূর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। বিশেষ করে বন্দরকে আরও গতিশীল ও চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষায় উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এ ড্রেজারটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়ানে নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন কোম্পানি ও আইএইচসি নেদারল্যান্ডের যৌথ প্রযুক্তিতে ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় শক্তিশালী এ ড্রেজারটি নির্মাণ করা হয়। এর মাধ্যমে মোংলা বন্দরের নাব্যতা সংকট নিরসনের একটি স্থায়ী সমাধান হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বরে চালনা পোর্ট নামে মোংলা বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। নাব্যতা সংকটের কারনে ১৯৫৪ সালে বন্দর ব্যবস্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয় বর্তমান অবস্থানে। তৎকালীন সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন ও বন্দর ব্যবহারকারীদের ভিড় সামাল দিতেও বন্দর কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। এ সময়ে বন্দরে গড়ে প্রায় ২০-২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন ও নির্গমন করত। পশুর ও মোংলা নদীর মোহনায় ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কর্মচঞ্চল বন্দর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এ বন্দরটি। তবে বিএনপি সরকারের সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা লাগামহীন দুর্নীতির, পাইলট ও কাস্টমসেমের হয়রানি কারণে অকারণে শ্রমিক ধর্মঘট ডেকে বন্দর অচল করার কারণে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহারের আগ্রহ হারাতে থাকে। বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন তো দূরের কথা সমস্যাগুলোকে বছরের পর বছর জিয়িয়ে রেখে সুবিধাভোগী মহল স্বার্থ লুটেছে। একে একে পুঞ্জীভূত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে এ বন্দরটি ইমেজ সংকটে পড়ে। এ ছাড়াও বিগত সরকার গুলোর একচোখা নীতি, ভুল পরিকল্পনা আর দূরদর্শিতার অভাবে দেশের দ্বিতীয় এ সমুদ্র বন্দরটি ধীরে ধীরে যৌলস হারায়। বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন আর আমদানি-রফতানি হ্রাস পেয়ে বন্দরটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। বন্দরের আয়ের চেয়ে ব্যয়ও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোংলা বন্দরের এ অবস্থা থেকে উত্তরনে নানামুখী উদ্দ্যেগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে ২০০৮ সালের ১ আগস্ট ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্তি করে শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয়। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অধিনে শ্রমিক নিয়োগ পদ্ধতি চালু করায় বর্তমানে পণ্য হ্যান্ডিলিং ব্যয় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া দ্রুত পন্য খালাস-বোঝাই শেষে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দর ত্যাগের নিশ্চয়তা পাচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে এ বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন তিনগুণ বেড়েছে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নানা কারণে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এ বন্দর বার্ষিক প্রায় ১৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে আসছিল। বর্তমানে এ বন্দরে তেমন দুর্নীতি না থাকায় লাভজনক বন্দরে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে বন্দর ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে সুযোগ সুবিধা বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে বন্দর ব্যাবহারকারীরা এখন মোংলা বন্দর ব্যবহারে বেশ আগ্রহী হয়েছে। গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বারবিডাসহ আরও বেশ ক’টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করে গাড়ি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। মোংলা বন্দরের পন্য পরিবহন, লোড- আনলোড, কন্টেইনার সুবিধা বৃদ্ধিসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার যে আধুনিকায়ন করনের কাজ চলছে তাতে এ বন্দর একটি অত্যাধুনিক দ্রুততম বন্দরে পরিনত হচ্ছে।