• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ মহররম ১৪৪২, ১২ আশ্বিন ১৪২৭

জমি বিবাদ নিয়ে অভিযোগ

রাজবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ : মানবেতর জীবনে পরিবার

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

| ঢাকা , শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রভাবশালীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন রাজবাড়ী জেলা সদরের চন্দনী ইউনিয়নের বেলগাছি চাঁদপুর গ্রামের (বর্তমানে চন্দনী চাঁদপুর) মরহুম মুক্তিযোদ্ধা সুলতান খানের পরিবার।

মরহুম সুলতান খান যশোরের শৈলকুপা বাহিনীর সেনা নায়ক মো. কামরুজ্জামান জোয়ারদারে অধীনে যশোর ও মাগুরা জেলাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজবাড়ীতেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রেখে গেজেটে প্রকাশ করেন। ২০০৪ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত গেজেটের ২২৬নং পৃষ্ঠায় তার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়।

এর আগে ২০০১ সালে সম্পাদিত লাল মুক্তিবার্তাতেও (লাল মুক্তিবার্তার নম্বর-০১১১০১০৩৭৯) তার নাম প্রকাশিত হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নামে ভাতা চালু করলে তিনিও ভাতা পেতেন।

সুলতান খান হাটে বাজারে ডিম বিক্রি করে সংসার চালাতেন। তাই কোন রকমভাবে চলতো তার সংসার। ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল মারা যান এ অসহায় মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেকে ভাতার টাকা পেতেন তার স্ত্রী হাসিনা বেগম। স্বামীর ভাতার টাকাতেই সংসার চলতো হাসিনার। বর্তমানে হাসিনা বেগমের সংসারে রয়েছে স্বামীহারা তার দুই মেয়ে ও তাদের সন্তান। কিন্তু ২০১৯ সালের এপ্রিলে তার ভাতার টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন হাসিনা বেগম।

হাসিনা বেগম জানান, ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে বাড়ির পাশে তাদের ২৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয় প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান ওরফে হাবু মাস্টার। এতে বাধা দিলে তারা সুলতান খানকে বেধড়ক মারপিট করেন। এ ঘটনায় ওই সময় হাসিনা বেগম হাবু মাস্টারসহ ৩ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে হাবু মাস্টার তাদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। তার স্বামী সুলতান খান মারা যাওয়ার পর ২০১৯ সালে হাবু মাস্টার তাকে অমুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই বছর এপ্রিল মাসে তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে স্বামী পরিত্যক্ত দুই মেয়েকে নিয়ে চরম মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছেন তিনি।

এ বিষয়ে হাবু মাষ্টারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জমিজমা নিয়ে বিরোধের কথা অস্বীকার করলেও মরহুম মুক্তিযোদ্ধা সুলতান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সুলতান খানকে এই এলাকায় কেউ মুক্তিযুদ্ধ করতে দেখেনি। সে অমুক্তিযোদ্ধা ছিল।

রাজবাড়ীর যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. কামরুল হাসান লালী জানান, সুলতান খান একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছিল। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তার চাচাতো ভাই হাবু মাষ্টারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি এ মুক্তিযোদ্ধার ভাতা চালুর জোর দাবী করেন।