• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১

খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

যমুনার তীরে সর্বনিম্ন ব্যয়ে বিশ্বমানের চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

‘সর্ব নিম্ন ব্যয়ে পৃথিবীর সর্বাধনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সর্বৎকৃষ্ট মানের সেবা’ এই স্লোগানকে অবলম্বন করে মানবতায় কল্যানে প্রয়াত ডা. মীর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের প্রতিষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অলাভজনক খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি অতিদরিদ্র অসহায় মানুষের জন্যও রাখা হয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা। এ কারণে আর প্রচুর অর্থ খরচ করে জটিল-কঠিন রোগের চিকিৎসায় বিদেশমুখী না হয়ে স্বল্প খরচে এ হাসপাতালেই প্রতিদিন ভিড় করছে দেশের হাজার-হাজার রোগীরা।

১৯৯৭ সালে যমুনা নদীর ৪০-৫০ ফুট গভীর জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করে প্রায় ২০০৩ সাল নাগাদ খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের নির্মান কাজ শেষ হয়। সেখানে অনন্য স্থাপত্য শৈলীর সঙ্গে ল্যান্ডস্কেপিংয়ের নান্দনিকতার মিশলে সৃষ্টি হয়েছে ৫৬টি ভবনের মধ্যে ২২টি ভবন। যা দেশের স্থাপত্য শিল্পে এক অনবদ্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৮৬ বেডের এ হাসপাতাল ভবন, সুবিশাল ইনডোর ভবন, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউিট, ক্যান্সার সেন্টার, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ, ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা হোস্টেল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস ভবন, সুবিশাল আবাসিক হোটেল, আধুনিক মার্কেট সহ অন্যান্য স্থাপনা। এরপর বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত, সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দেশের সর্ববৃহৎ এই অলাভজনক ট্রাস্টি হাসপাতাল ২০০৩ সালের ১৭ মে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তখন দেশের মধ্যে অনেকটা প্রথম স্বল্প খরচে ওপেন হার্ট, বাইপাস সার্জারি সহ অন্যান্য জটিল-কঠিন রোগের অপারেশন সফলভাবে সম্পূর্ণ করার সমগ্র দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রচুর অর্থ ও সময় ব্যয় করে সাধারণ রোগীদের আর বিদেশমুখী চিকিৎসায় ভরসা না করতে হওয়ায় মানুষ এ সেবা প্রতিষ্ঠানটিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

এর মধ্যে গত ২০০৫ সালের মাঝামাঝিতে চালু করা হয় ক্যান্সার সেন্টার। এতে সম্পৃক্ত করা হয় বিশ্বের সর্বাধুনিক রেডিও থেরাপি মেশিন লিনিয়ার এক্সেলেরেটর, ব্রাকি থেরাপি মেশিন। যা তখন কার সময়ে দেশে প্রথম। এতে একজন রোগীর সম্পূর্ণ দেহ চেকাপ করে নিখুতভাবে নির্ণয় হয় ক্যান্সার রোগ। সে অনুযায়ী রোগীর ক্যান্সার কোষকে দেহ থেকে ধ্বংস করা হয়। এ ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশের মধ্যে খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালই এখন পর্যন্ত সেরা বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীরা। এতেও বহির্বিশ্বের চেয়ে এখানে রাখা হয় তুলনামূলক স্বল্প খরচ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এফ আর সরকার জানান, আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। গিয়েছি অনেক বড়-বড় হাসপাতালে। সেখানে হাসপাতালগুলো আসলে শহর ও রাজধানী নির্ভর। কিন্তু পৃথিবীর মধ্যে এটিই একটি বিরল চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান যা একটি গ্রামে অবস্থিত। তাও দেশের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতাল। এটা আসলেই দরিদ্র নির্ভর। গ্রাম তথা দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের কল্যানের কথা ভেবেই গড়ে তোলায় ডা. এম এম আমজাদ হোসেন ও তার পরিবার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। মানবতার কল্যাণে নিবেদিত তাদের প্রতিষ্ঠানে সেবা নিয়ে মানুষ আজীবন তাদের স্মরণ করবে।

খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের ৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রয়াত চেয়ারম্যান ডা. এম এম আমজাদ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ ইউসুফ রয়েছেন পরিচালকের দায়িত্বে। আর পরিবারের অন্যান্য ৫ সদস্য রয়েছেন বোর্ডের সদস্য হিসেবে। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ মানবীয় হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা তার পিতা ডা. এমএম আমজাদ হোসেন সম্পর্কে বলেন, দেশের মানুষের জন্য তার অঘাত ভালবাসা ছিল। দেশকে সমৃদ্ধ করতে জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপে সফল হয়েছেন। খাজা বাবা ইউনুছ আলী (র.) দিক নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত পক্ষে দেশের মানুষকে সুচিকিৎসা দেবার লক্ষ্যে আমার বাবা অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠান করেছেন। এটা আমাদের একার নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পদ। তিনি জানান, আমার বাবা মানুষের কল্যাণের ব্রত নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, আমরা তার দেখানো আলোর পথই অনুসরণ করব।