• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

রংপুরে সেমিনারে বাণিজ্য সচিব

চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক রংপুর

| ঢাকা , সোমবার, ১৩ মে ২০১৯

বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেছেন, তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর চরাঞ্চলে পড়ে থাকা এক লাখ হেক্টর জমিতে শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। এ জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

তিনি শনিবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষেত পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মিষ্টি কুমড়া রপ্তানি শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য সচিব বলেন, দেশের বেশিরভাগ নদীর চরাঞ্চল বালুময় হওয়ায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। অথচ বর্ষা মৌসুম শেষ হবার পর ৬ মাস সেখানে পানি থাকে না চারদিকে শুধু বালু আর বালু অথচ প্রায় এক লাখ হেক্টর জমিতে শুধু মাত্র মিষ্টি কুমড়া চাষ করেই দেশের অর্থনীতির চাকা আরও সতেজ করা যায়। সেই সঙ্গে হাজার হাজার হতদরিদ্র পরিবার স্বনির্ভর হতে পারে। তিনি বলেন, রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে শত শত হতদরিদ্র কৃষক মিষ্টি কুমড়া চাষ করে এখন তারা পুরোপুরি স্বাবলম্বী। তাদের সন্তানরা এখন লেখাপড়া করছে টিনের বদলে তাদের পাকা ঘর হয়েছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ তারা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। সেই সঙ্গে সেচ সুবিধা আর ভালো বীজ এবং সামান্য পরিমাণ টাকা মাত্র ৬ মাসের জন্য তাদের প্রদান করা হলে এ অঞ্চলের দৃশ্যপট বদলে যাবে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন ২০০৫ সাল থেকে চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সহায়তা করছে। তিনি কৃষি বিভাগ, বিএডিসি কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বলেন, চরাঞ্চলে সোনা ফলানো সম্ভব তা তারা জানেন না। সরকারকে এ সব বিষয়ে তেমন অবহিত করেন বলে আমার মনে হয় না। তার পরেও তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরাঞ্চলে মিষ্টি কুমড়াসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে কৃষকদের ইনসেনটিভ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। বাণিজ্য সচিব বলেন, চেম্বার অফ কর্মাসসহ বড় বড় উদ্যোক্তারা যদি এগিয়ে আসে আর কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে তাহলে মালেয়শিয়া আর চীনে শুধু মিষ্টি কুমড়া রপ্তানি করে শত কোটি ডলার আয় করা সম্ভব। রংপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জয়নুল বারী, প্রাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বরেন্দ্র প্রকল্পের চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী। সেমিনারে রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, বিএনডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিষ্টি কুমড়া চাষিসহ বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।