• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জিলকদ ১৪৪১

কালকিনির বোতলা-কর্ণপাড়া রাস্তা বেহাল : দুর্ভোগে ১০ গ্রাম

সংবাদ :
  • আশরাফুর রহমান, কালকিনি (মাদারীপুর)

| ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

image

কালকিনি (মাদারীপুর) : যান চলাচলের অনুপযোগী কর্নপাড়া-বোতলা কাঁচা রাস্তা -সংবাদ

বর্ষাকালে আমাগো রাস্তায় হাটু পর্যন্ত কাদা-পানি থাকে, তখন এ রাস্তা দিয়ে আমাগো চলাফেরা একেবারে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যখন বর্ষা মৌসুম শেষ হয়, তখন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। কত চেয়ারম্যান-মেম্বার আসে যায়, কিন্তু আমাগো রাস্তা আর পাকা হয় না। জন্ম থেকেই এই রাস্তাটা যেভাবে বেহাল দশা অবস্থায় দেখে আসছি, আজ পর্যন্ত ঠিক সেভাবেই পড়ে আছে। কেউ তো আমাগো রাস্তাটা পাকা করে দিলো না। কিন্তু কবে যে এই রাস্তাটি পাকা হবে তার কোন খবর নেই- এমন আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালীগ্রাম এলাকার বোতলা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী হালিমন বেগম। তিনি আরো বলেন, এই রাস্তা দিয়ে বাড়ির যাওয়ায় সময় পা পিচলে পরে গিয়ে এক বার আমার পা ভেঙ্গেছে। সেখান থেকে এই রাস্তা দিয়ে ভয়ে এখন আর যাতায়াত করি না। সরকারের কাছে আমার জীবনের শেষ চাওয়া, তিনি যেন রাস্তাটা পাকা করে দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বালীগ্রাম ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত কর্নপাড়া ব্রিজ থেকে বোতলা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশার কারনে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ইউনিয়নের কর্নপাড়া-বোতলা নামে পরিচিত কাচা রাস্তাটি এখন মানুষের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ রাস্তা দিয়ে বোতলা, পশ্চিমবালীগ্রাম ও দক্ষিন বালীগ্রাম ও আটিপাড়াসহ প্রায় ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করে থাকেন। সামান্য বৃষ্টির পানিতে কাঁচা রাস্তাটি মানুষের চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে করে জনদুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

জানা গেছে, প্রায় ৯-১০ ফুট প্রস্থ ও প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ রাস্তাটি পাকাকরণ হয়নি। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার কাঁদা-মাটি ও বিভিন্ন স্থানে বড়-বড় গর্তে সৃষ্টি হয়েছে। দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে ধীরে-ধীওে এ মাটির রাস্তাটি পাশে ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে মানুষের এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে অনুপযোগী ও বিপদজনক হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির দিনে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানায় পথচারীরা।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, বালীগ্রাম ইউনিয়নের ২-৩-৪নং ওয়ার্ডের বসবাসকারী ও বিভিন্ন কাজে কর্মে আসা মানুষের জন্য রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সহজতম যাতায়াত ব্যবস্থা এটি। এ ছাড়াও উপজেলার খুব কাছাকাছি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রতিদিন এই এলাকার হাজার-হাজার মানুষ অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটারসাইকেলযোগে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ সময় স্থানীয় পশ্চিম বোতলা গ্রামের ফাহিম, জিয়া, রেবেকা ও আনোয়ারা বেগমসহ অনেকেই বলেন, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায়ই পড়ে আছে। রাস্তাটিতে বড়-বড় গর্ত হয়ে গেছে। এখান দিয়ে স্কুল ও মাদ্রসার শিক্ষার্থীর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে গেলে উল্টে পড়ে যেতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অটোরিকশা ও ভ্যানের চাকা গর্তে ফেঁসে যায়। এত করে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। আমাগো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাগ্য উন্নয়ন হয় কিন্তু আমাগো রাস্তার উন্নয়ন হয় না। তাই রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

বালীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন কাছে জানতে চাইলে রাস্তা বেহালের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, জনগনকে দুর্ভোগের হাত থেকে বাঁচাতে ওই রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কয়েকবার অবহিত করেছি। আশা করি শীঘ্রই টেন্ডার হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, আমি নতুন এসেছি রাস্তাটির বিষয় ভালো করে জানিনা। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।