• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ মহররম ১৪৪১

ময়মনসিংহ মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে

অনিয়মে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন : তদন্তে কমিটি

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, ময়মনসিংহ

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শিক্ষা নগরী ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। এছাড়াও তিনি এই কলেজের অধ্যক্ষ পদে প্রার্থী হয়েও অধ্যক্ষ নিয়োগের সমস্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন। এ ব্যাপারে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান, পরিদর্শকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছেন ।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন দায়িত্বে বহাল থেকে নিজে একজন অধ্যক্ষ পদের প্রার্থী হয়েও গত ৮ মে অত্র কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বরাবরে না চেয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বরাবরে আবেদন চেয়ে নিজেই স্বাক্ষর করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে তোলপার শুরু হলে পরবর্তীতে এটি ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে সভাপতি বরাবরে আবেদন চেয়ে পুনরায় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। বেসরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগের নিয়োগ বিধি সংশোধিত ২০১৫ খ্রিঃ এর ৪(৫) ধারা মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজে অধ্যক্ষ পদের প্রার্থী হলে ব্যবস্থাপনা কমিটির অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রথম সভায় নিজে প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে কলেজের জেষ্ঠ্য কোন শিক্ষককে যিনি এই পদে প্রার্থী হবেন না তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করতে হবে এবং নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন। আর অধ্যক্ষ নিযোগের বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সভাপতি বরাবরে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবেন।

এছাড়াও ১২ জুন অধ্যক্ষ নিয়োগ ও এই প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্বাচনী নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি গত ২২ জুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন এবং অত্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিশাত ওসমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সহকারী অধ্যাপক নিশাত ওসমান দায়িত্ব গ্রহন করার পর ৩০ জুন অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন করে ২৩ জুনে স্বাক্ষরিত ইন্টারভিউ কার্ড প্রদান করেন। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ২৬ জুন অনিবার্য কারণবশত ঃ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে প্রার্থীদের পরীক্ষার বিষয়ে অবগত করা হবে এই মর্মে নিয়োগ প্রার্থীদের চিঠি দেয়া হয়। এব্যাপারে নিশাত ওসমানের সঙ্গে য়োগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্বাচনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত বির্তকিত হওয়ায় ৩ জুলাই সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের বিজ্ঞপ্তিতেও এই অব্যাহতি প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিনের স্বাক্ষরেই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তবে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাতিল না হলেও অব্যাহতিপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিকে ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনরায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে বিধি অনুযায়ী নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন বা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় কমিটি যে সিনিয়র শিক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনিই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে বহাল থাকার বিধি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই যা হয়েছে সবই বিধি মোতাবেকই হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপানা কমিটির মেয়াদ গত ৭ জুলাই শেষ হলেও জুলাই মাসের সরকারি বেতন বিল ও ঈদুল আযহার উৎসব ভাতার সমস্ত বিলের কাগজে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সভাপিতির ৮ আগস্টে স্বাক্ষর নিয়ে এবং একই সময়ে এই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন পদ থেকে অব্যাহতি থাকা অবস্থায় এই বিলে স্বাক্ষর প্রদান করে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করেন। যেখানে নিয়ম রয়েছে কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে আহাবায়ক কমিটি না থাকলে বিভাগীয় শহরের প্রতিষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারের স্বাক্ষরে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করা যাবে। এ ব্যাপারে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবকিছুই বিধি অনুযায়ীই হয়েছে। অধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়োগ পক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছে বাতিল করা হয়নি। কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ার নব্বই দিন আগে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নেয়ার কথা থাকলেও কেন নেয়া হলো না এ প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ কমিটি গঠনের ব্যাপারে সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হককে বলা হয়েছিল কিস্তু সভাপতি বলেছেন এভাবেই চলতে থাকা অধ্যক্ষ নিয়োগের পরে কমিটি গঠন করা হবে।

উক্ত অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের সুবিচার চেয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক রাহাত জাহান হোসেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ময়মনসিংহ চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষাবোর্ড ময়মনসিংহ চেয়ারম্যান গাজী হাসান কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে অচিরেই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।