• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

লুব্রিকেন্টের মান নিয়ন্ত্রণে দেশে ভালো ল্যাবরেটরি প্রয়োজন

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ২২ নভেম্বর ২০২০

শিল্প এবং ট্রান্সপোর্ট খাতকে সুস্থ রাখতে নির্ভেজাল লুব্রিকেন্ট জরুরি উল্লেখ করে এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লুব্রিকেটিং অয়েলের মান নিয়ন্ত্রণে রেগুলেটরি বডির সক্ষমতার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বিইআরসি ঠুঁটো জগন্নাথ, তাদের না আছে লোকবল না আছে ল্যাবরেটরি। গতকাল এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার আয়োজিত ‘স্থানীয় লুব্রিকেন্ট শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমন মতামত উঠে এসেছে।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের এডিটর মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন, লুব র‌্যাফ অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের কনসালটেন্ট এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সুফী, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ খালেদ, বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বায়েজিদ কবীর, এমজেএল লুব্রিকেন্ট’র সিইও মুকুল হোসেন প্রমুখ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ফুড মেডিসিনের পরেই লুব্রিকেটিং অয়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা সাংঘাতিক ক্রিটিক্যাল। এটি ভালো না হলে ইঞ্জিন সিজ করবে, কুলিং কম হবে অনেক সমস্যা হতে পারে। আমি অবাক সরকার কেন এদিকে নজর দিচ্ছে না। আমাদের এলপিজি, সিমেন্টসহ সব জায়গায় কামড়াকামড়ি চলছে। প্রত্যেকটি শিল্পে এটি ঢুকে গেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে রেগুলেটর নিজে ব্যবসায় ঢুকে গেছে। লুব্রিকেটিং অয়েল সেক্টরের একই সমস্যা দেখছি। স্ট্যান্ডার্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো ল্যাবরেটরি নেই। লুব র‌্যাফ অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বিপিসি যে পলিসি নিয়েছে আত্মবিধ্বংসী পলিসি হবে। আমদানি করার আগে যেখান থেকে আনতে চায় তাদের ও আমাদের প্লান্টগুলো ভিজিট করে দেখুক। আমাদের সক্ষমতা কতটুকু। এমজেএল লুব্রিকেন্ট’র সিইও মুকুল হোসেন বলেন, বিপিসি ৫ হাজার ৪শ’ টন আমদানির জন্য যেভাবে টেন্ডার কল করেছে, তাতে মনে হচ্ছে একটা কিংবা দুটি পার্টিকে কাজ দেয়ার জন্য টেন্ডার করেছে। মালয়েশিয়া এবং দুবাইকে কাজ দেয়ার জন্য এমন কিছু শর্ত যুক্ত করেছে। তিনি বলেন, হায়ার ভ্যালু ব্র্যান্ডের ড্রামে লোকাল ব্র্যান্ডের লুব করা হচ্ছে। এখানে কালো টাকা সাদা করার জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে। বিপিসি, বিএসটিআই ও বিইআরসি, নখ-দন্তহীন বাঘ। ট্রেস্টিং করার মতো দক্ষতার অভাব রয়েছে। বুয়েটে রেজাল্ট ভিন্ন আসে।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, আন্ডার ইনভয়েসে এনে মার্কেটে কারসাজি চলছে। এখন ট্যারিফ ভ্যালু করা হয়েছে ২ হাজার ডলার। আমাদের নিজেরা আড়াই হাজার ডলার দিয়ে আমদানি করছি। অনেক সময় দুবাই থেকে আমাদের প্রোডাক্ট এনে কম দামে বিক্রি করছে। রিসাইকেল অয়েলের জন্য তিনটি ব্যান্ডিং প্লান্টকে অনুমোদন দিয়েছে। এর বাইরে ভুঁইফোড় ৩০টি মতো রয়েছে- এরা জাহাজ, পাওয়ার প্লান্ট, ট্রান্সফরমার ওয়েল এক ড্রামে রেখে ব্লিসিং পাউডার দিয়ে রেখে দিচ্ছে। জমে গেলে ওপর থেকে বিক্রি করছে। এতে কোয়ালিটি থাকছে না, মেশিন লাইফটাইম হারাচ্ছে। রেগুলেটরি বডি বিইআরসি ঠুঁটো জগন্নাথ, তাদের না আছে লোকবল না আছে ল্যাবরেটরি। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বায়েজিদ কবীর বলেন, নিজস্ব কাঁচামাল নেই লুবের। প্রপার ওয়েতে কাঁচামাল কালেক্ট করে রিসাইকেল করা গেলে ৬০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এতে দুইভাবে উপকার পাওয়া যাবে, এক ফরেন কারেন্সি সেভ হবে, অন্যদিকে নিমানের প্রোডাক্ট কমে যাবে।