• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৫, ১২ শাওয়াল ১৪৪০

প্রাক বাজেট আলোচনা

‘ব্লু ইকোনমি’ বিস্তৃত করতে হবে

| ঢাকা , রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০১৯

আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রাক-বাজেট আলোচনা শুরু করেছে। তার ধারাবাহিকতায় বেসরকারি টেলিভিশন বাংলা টিভি নিয়মিত প্রচার করছে প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠান ‘বাজেটে প্রত্যাশা’। ‘সংবাদ’ অনুষ্ঠানটির প্রিন্টমিডিয়া পার্টনার। খন্দকার রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির সপ্তম পর্বের আলোচনা তুলে ধরা হলো। বাজেটে ব্যাংক খাত বিষয়ে এ পর্বের আলোচনায় ছিলেন মো. নিজাম চৌধুরী, চেয়ারম্যান, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও ড. মো. হেলাল, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রুহুল আমিন : আমি প্রথমেই আসবো নিজাম চৌধুরীর কাছে। আমরা জানি, আপনি নিজে একটি ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত। একটি নতুন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন আপনি। আসন্ন বাজেটে ব্যাংক খাত নিয়ে আপনার প্রত্যাশার কথা আমরা শুনতে চাই।

নিজাম চৌধুরী : অর্থমন্ত্রী যখন কোন বাজেট দেয়, এর একটা নির্দিষ্ট অঙ্ক থাকে যে, এতো লক্ষ কোটি টাকার বাজেট। অর্থাৎ এটা সরাসরি ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা টাকা নিয়েই তো ডিল করি, তাই না! বাংলাদেশে ব্যাংকের সার্কুলেশন প্রায় এগারো লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে গতবার চার লক্ষ চৌষট্টি হাজার কোটি টাকার বাজেট দেয়া হয়েছে। গতবারের বাজেট বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক। এক্ষেত্রে ব্যাংকের ভূমিকা কি? এখন থেকে পাঁচ/দশ বছর আগে ঘাটতি বাজেট বেশি হতো। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তখন ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হতো। অনেক সময় দেখা যেত, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ টাকাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হতো। বর্তমানে আমাদের এক্সপোর্ট ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। ২০০৮ সালে যখন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এল, তখন আমাদের বাজেট ছিল মাত্র ছিয়াত্তর হাজার কোটি টাকা। আর এখন সেই বাজেট আরও চার লক্ষ কোটি টাকা বেশি। দ্যাট মিনস দ্য ইকোনমি ইজ গ্রোয়িং ট্রিমেন্ডাসলি।

আমাদের ইকোনমিতে নতুন নতুন খাত সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- ব্লু ইকোনমি। মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে আমরা আরেকটি বাংলাদেশের চেয়েও বড় জায়গা পেয়েছি বঙ্গোপসাগরে। এটাকে যদি আমরা এক্সপ্লোর করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের বাজেটে এখন যে পরিমাণ কারেন্সি আছে, এর চেয়ে অনেক বড় হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ এবং ২০৪১ সালের একটা ভিশন দিয়েছেন। উনি নিজেও জানেন যে, ২১০০ সাল পর্যন্ত উনি বেঁচে থাকবেন না। কিন্তু তারপরেও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উনি একটা ডেল্টা প্ল্যান দিয়েছেন। অর্থাৎ সব কিছু বিবেচনায় নিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

আপনারা জানেন, ব্যাংকগুলো এখন মাল্টি সেক্টরাল কাজ করে। আগে আমাদের দেশে রিটেইল ব্যাংকিং বলে কিছুই ছিল না, কনজ্যুমার ব্যাংক বলে কিছু ছিল না, অনেকে এসব বুঝতই না। আপনি হিসাব করে দেখেন, আমাদের দেশের কত পার্সেন্ট লোক এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। এই ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কিন্তু বিশাল একটা বিপ্লব নিয়ে এসেছে আমাদের দেশে। কোম্পানিগুলো এখন তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিস্তিতে কিনতে পারছে। ব্যাংকগুলো কনজ্যুমার ক্রেডিটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা এবং ইউরোপে অনেক ব্যাংক এসব করেই কিন্তু বেঁচে থাকে। আমরা আস্তে আস্তে ঐদিকে যাচ্ছি।

জব ক্রিয়েশন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল খাতকে বড় করার স্বার্থে বড় বিনিয়োগকারীকে আমরা হয়ত ১০০ কোটি টাকা লোন দেব, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা যদি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি না করি, ১০০ লোককে ১ কোটি করে ১০০ প্রকল্পে লোন না দেই, তাহলে কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে না। ডেভেলাপিং নেশনগুলোর প্রথম শর্তই হল স্মল বিজনেসকে গ্রো করার সুযোগ দিতে হবে। আমেরিকায় স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলে একটা অথোরিটি আছে, দে ক্রিয়েট মোর জবস দ্যান এনি আদার বিগ কোম্পানিজ।

রুহুল আমিন : কিন্তু নিজাম সাহেব, আপনি যে বিষয়টাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অর্থাৎ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া, সুযোগ-সুবিধা দেয়া, এসব তো তেমন করে হচ্ছে না। বাস্তব প্রেক্ষাপটে কিন্তু আমরা তেমনটা পাচ্ছি না।

নিজাম চৌধুরী : না না। এটা এখন চালু হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, আপনি যে এনআরবি ব্যাংকটা করলেন, এনআরবিদের জন্য আপনার কোন স্পেশালাইজড প্রোডাক্ট আছে কি না? আমি ওনাকে বললাম, আমরা ১৭টি নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছি এনআরবিদের জন্য। আমরা আলাদা ডেস্ক করে দিয়েছি সেখানে। শুধু আমরা নই, প্রতিটি ব্যাংকই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। ছোট ছোট লোন দিচ্ছে।

রুহুল আমিন : ধন্যবাদ আপনাকে। আমরা এবার আসবো হেলাল ভাইয়ের কাছে। আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশে যে জিনিসটার অভাব সবচেয়ে বেশি তা হলো গবেষণা। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রকৃত গবেষণার ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টরেও এই ঘাটতি আছে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই যে ধরনের রিসার্চ প্রয়োজন আমরা কম করছি যদিও উন্নত বিশ্বে এই কাজটি অনেক বেশি মাত্রায় করা হয়। আপনার কাছে আমাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা হচ্ছে কি?

মো. হেলাল : নর্থ ও সাউথ বলে একটা কথা প্রচলিত আছে, নর্থকে বলি আমরা উন্নত বিশ্ব এবং সাউথ হল উন্নয়নশীল বিশ্ব। নর্থের লোকেরা গবেষণা করে ইনোভেট করে। আর সাউথ অর্থাৎ গরিব দেশগুলো সেই বিষয়গুলোকে অনুকরণ করে। চীন যে এত উন্নতি করছে, তারা কিন্তু অনেক কিছুই আবিষ্কার করেনি। উন্নত বিশ্ব যেগুলো আবিষ্কার করেছে সেগুলোকে অনুকরণ করে তারা অনেক সস্তায় মোটামুটি মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করছে এবং সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারছে। বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র আয়ের দেশে কিন্তু রিসার্চ করার মতো এত রিসোর্স ছিল না। কিন্তু এখন আস্তে আস্তে সেই রিসোর্স তৈরি হচ্ছে। বাকি অংশ ১৩-এর পাতায় দেখুন