• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫, ৪ জিলকদ ১৪৩৯

নতুন ঋণখেলাপি হবে না

২৪ বছরে পা দিয়ে প্রাইম ব্যাংকের ঘোষণা

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অতীতে যে সমস্ত ঋণখেলাপি হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে কঠোরভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া এখন যে সমস্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে সেগুলো খেলাপি হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশের বেসরকারি প্রাইম ব্যাংক। গতকাল ব্যাংকটির ২৩ বছর পূর্ণ হওয়া ও ২৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহেল আহমেদ। এ সময় তিনি প্রাইম ব্যাংক এসএমই ও কনজ্যুমার ব্যাংকিংকে ঢেলে সাজানোর কথাও বলেন। এ জন্য ব্যাংকের শাখাগুলোকে শক্তিশালীকরণ, জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহারসহ পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম রব্বানী, মো. তৌহিদুল আলম খান, সৈয়দ ফরিদুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা।

সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাহেল আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাত যে একটা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; এটা আমি মনে করি না। তবে বড় একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এক্ষেত্রে প্রাইম ব্যাংক স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একটি টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।

আমরা এসএমই ও কনজ্যুমার ব্যাংকিংকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছি। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে আমাদের। এই পরিবর্তনের জন্য ব্যাংকের শাখাগুলোকে শক্তিশালীকরণ, জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, এনপিএল কমিয়ে আনাসহ সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আমরা চাই ২০২১ সালের মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের প্রবৃদ্ধিতে এসএমই ও কনজ্যুমার ব্যাংকিংয়ের অবদান ৪০ শতাংশের বেশি থাকে। তিনি বলেন, এনপিএল (নন পারফরমিং লোন) বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে বড় সমস্যা। তবে প্রাইম ব্যাংক এই এনপিএলকে একটি পর্যায়ে (৫% এর ওপরে) আনতে পেরেছে। এখন অনেক দেখে শুনে আমরা ঋণ বিতরণ করছি। যাতে নতুন করে আর এনপিএল না বাড়ে। ২০১৮ সাল হবে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এরপরে আমরা এনপিএলকে একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে আসতে পারব।

ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কমার কারণ হিসেবে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রাইম ব্যাংক দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি করতে চায়। এজন্য প্রথমে আমাদের বুকটাকে ক্লিন করার চেষ্টা করেছি। এতে গত বছরে ৩৫৮ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এর জন্য ৩৫৬ কোটি টাকা প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) করা লাগছে। এছাড়া গত বছরে আমাদের ট্রেজারি বিল বন্ড থেকে বড় ধরনের একটা আয় এসেছিল; যেটা এবছর আসেনি। এ কারণে ব্যাংকের ইপিএস কমেছে। ২০১৭ সাল শেষে প্রাইম ব্যাংকের সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ১২২ কোটি টাকা। আর এককভাবে হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। আলোচ্য বছরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ছিল সমন্বিত ৫৫৯ কোটি টাকা। যা এককভাবে ছিল ৫৩৭ কোটি টাকা। আলোচ্য বছরের ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।