• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

শেয়ারের দাম কমছেই

১২ কার্যদিবসে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই

বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

| ঢাকা , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২০

image

বর্তমানে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। সর্বশেষ এই অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস আতঙ্ক। এর ফলে শেষ বারো কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বাজার মূলধন ৪৪ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বাজার মূলধন ৪২ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩ কোটি ১৮ লাখ টাকায়। মার্চ মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ডিএসইতে ১২ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আর এই ১২ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ৪৪ হাজার ৯০ কোটি ৭ হাজার ২০০ টাকা বা ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ১৬ মার্চ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৩ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকায়। অর্থাৎ এই ১২ কার্যদিবসের প্রতি কার্যদিবসে বাজার মূলধন ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার ১৬৬ টাকা করে কমেছে। একই সময়ে সিএসইতে বাজার মূলধন ৪২ হাজার ৯১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার ১১০ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। আর মার্চ মাসের ১৬ তারিখ বাজার মূলধন দাঁড়ায় ২ লাখ ৩২ হাজার ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতি কার্যদিবসে সিএসই বাজার মূলধন হারিয়েছে ৩ হাজার ৫০৭ কোটি ৫৮ লাখ ৬৩৩ টাকা করে।

মার্চ মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত ১২ কার্যদিবস শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে এই ১২ কার্যদিবসের ৮ কার্যদিবসই পতন হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। ৮ কার্যদিবসের বেশিরভাগ কার্যদিবসই বড় পতন হয়েছে ডিএসইতে। আর বাকি চার কার্যদিবস উত্থান হয়েছে। উত্থান-পতনের হিসাব শেষে দেখা গেছে, ডিএসইতে এ সময় পর্যন্ত প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭০৮ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে ১৬ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৭১ পয়েন্ট বা ১৬.৩৪ শতাংশ কমে ৮৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২২৭ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ হাজার ১৬৬ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৭৬ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ১ হাজার ৩১৬ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, সিএসই-৩০ সূচক ১ হাজার ৭৫০ পয়েন্ট বা ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, সিএসই-৫০ সূচক ১৫০ পয়েন্ট বা ১৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং সিএসই ১৫১ পয়েন্ট বা ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ১৬ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৭ হাজার ১৭ পয়েন্টে, ১০ হাজার ১৬২ পয়েন্টে, ৮২৮ পয়েন্টে এবং ৭৫০ পয়ন্টে।

শেয়ারবাজারের এই অস্থিরতাকে স্থিরতার দিকে ফিরিয়ে আনতে গত সোমবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে বিএবি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেছেন, এখন বাজারে যে প্রায় ৫০টি ব্যাংক রয়েছে, সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনবে। কিন্তু এগুলো একসঙ্গে কেনা হবে না। ক্রমান্বয়ে প্রতিটি ব্যাংক ওই টাকার শেয়ার কিনবে। এ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মনিটরিং করবে। প্রতি সপ্তাহে এ নিয়ে একটি মিটিংও করা হবে। বৈঠকের পর এমন ঘোষণার ফলে শেয়ারবাজার নিয়ে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। তাদের মতে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে সত্যি বিনিয়োগে আসলে শেয়ারবাজার সমনের দিকে এগিয়ে যাবে।

এদিকে শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থায় কিছু করার জন্য আজকে বসেছিলাম। আর কিছু করতে হলে ব্যাংকগুলোকে নিয়ে করতে হবে, কারণ তারাই আমাদের প্রাইমারি সোর্স। ব্যাংকাররা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও আমাদের সাপোর্ট দিচ্ছে। শেয়ারবাজারকে ঠিক জায়গায় রাখার জন্য প্রাইভেট ব্যাংকসহ সব সরকারি ব্যাংকগুলো যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। শেয়ারবাজারে এখন করোনাভাইরাস নিয়ে যে আতঙ্ক করছে, তা আমাদের কারোর হাতেই নেই। এখানে আমার কথা হলো, কিছু বিনিয়োগকারী এখন শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। ১০ টাকার শেয়ার ৫ টাকায় বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। এখন আমাদের যে বিপদ যাচ্ছে, এই সাময়িক সময়ে কিভাবে বাজারকে সাপোর্ট দিয়ে গতিশীল রাখা যায় সে চেষ্টা করতে হবে যাতে কেউ ভীত হয়ে কম দামে শেয়ার বিক্রি করে চলে না যায় সেই অনুরোধ রইল। আর যে সমস্ত পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমরাও সে ব্যবস্থা নিব।