• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫, ২ জিলহজ ১৪৩৯

পোল্ট্রি শিল্পের বাজেট প্রতিক্রিয়া

সয়াবিন কেক থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

কাঁচামালের ওপর কর ও শুল্ক আরোপের কারণে প্রতিকেজি মুরগির উৎপাদন খরচ সাড়ে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে গেছে

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

প্রস্তাবিত বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পে জন্য সয়াবিন তেল কেক আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি)। সংগঠনটির মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পকে উৎসাহ দেয়ার লক্ষ্যে ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় এ কাঁচামাল আমদানিতে শূন্য শুল্ক এবং ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হয়েছে। এতে করে পোল্ট্রি শিল্পের চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

গতকাল পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি) এক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত বাজেটে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রসঙ্গত: সয়াবিন তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনা শুল্কে সয়াবিন আমদানীর অনুমতি দেয়া হয়েছে। ঐ শিল্পের বাইপ্রোডাক্ট-ই হচ্ছে, সয়াবিন অয়েল কেক। তাই এমন একটি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করা সাংঘর্ষিক, বিধায় তা প্রত্যাহারের জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম।

বিপিআইসিসি’র সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, বিগত দুই বছর থেকে পোল্ট্রি ফিডে ব্যবহৃত প্রধান দু’টি কাঁচামাল ভুট্টা এবং সয়াবিন অয়েল কেক আমদানিতে সুবিধা চেয়ে আসছেন খামারি ও উদ্যোক্তারা কিন্তু বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও প্রাপ্তির খাতা শূন্য। তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সয়াবিন অয়েল কেক (এইচএসকোড ২৩০৪.০০.০০)-এর ওপর ১০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করা হয়েছিল কিন্তুু কোন রেগুলেটরি ডিউটি ছিল না। রেগুলেটরি ডিউটি না থাকায় সাফটা চুক্তির আওতায় সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় সয়াবিন কেক আমদানি করতে পারতেন পোল্ট্রি ও মৎস্য ফিড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সয়াবিন অয়েল কেক এর চাহিদা প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন, যার ৫০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। অবশিষ্ট ৫০ ভাগের অর্ধেক সার্কভুক্ত দেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি হয় আর বাকি অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

মসিউর বলেন, রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করার কারণে এখন সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকে যে ৪ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কেক শুল্ক সুবিধায় আমদানি করা হতো তার ওপরও নতুন করে শুল্ক আরোপিত হলো। অর্থাৎ মোট প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন কেক শুল্ক জালে আটকা পড়ল। যার কারণে পোল্ট্রি ও ফিস ফিডের উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে- বেড়ে যাবে পোল্ট্রি ও ফিস ফিডের দাম।

ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব)-এর সাধারণ সম্পাদক আহসানুজ্জামান বলেন, পোল্ট্রি ফিডের শতকরা প্রায় ২০-২৫ ভাগ সয়াবিন মিল। দুই বছর আগেও সয়াবিন মিল আমদানিতে কোন শুল্ক ছিল না। ২০১৬-১৭ সালের বাজেটে কাস্টমস এ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ফাস্ট সিডিউল জি এইচ এস কোড ‘২৩০৪.০০.০০’তে একটি পরিবর্তন এনে ১০ শতাংশ হারে কাস্টমস শুল্ক আরোপ করা হয়।

আহসানুজ্জামান বলেন, ভোজ্য তেল একটি খাদ্য খাত অন্যদিকে ফিড ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাষ্ট্রি একটি ফিড খাত। শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের যে নীতি সে অনুযায়ী খাদ্য খাতে শুল্কের আওতায় থাকলেও ফিড খাতকে সাধারণত শুল্কমুক্ত রাখা হয়। অথচ আমাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় পোল্ট্রি শিল্পের জন্য সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং সয়াবিন অয়েল কেক এর আমদানি শুল্ক শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু একই সঙ্গে ৫ শতাংশ হারে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে। এতে লাভ তো হলোই না উল্টো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ল চ্যালেঞ্জের মুখে টিকে থাকা এ শিল্পটি। পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচামালের ওপর কর ও শুল্ক আরোপের কারণে প্রতিকেজি মুরগির উৎপাদন খরচ এমনিতে সাড়ে ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়ে গেছে। এখন যদি সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকেও সয়াবিন কেক আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি দিতে হয় তবে উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে। তাঁরা বলছেন, সরকারকে অবশ্যই রেগুলেটরি ডিউটি শূন্য করার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে হবে। এর পাশাপাশি পোল্ট্রি ফিডের প্রধান কাঁচামাল ভুট্টা- পোল্ট্রি ফিডে যার পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ, তা আমদানিতে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি তাঁরা মাছের তেল, মুনু ক্যালসিয়াম ফসফেট, ভেজিটেবল ফ্যাট, প্লোষ্ট্রি ভ্যাকসিন, সয়া প্রোটিন প্রভৃতি উপকরনের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন।