• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বৈশ্বিক বাজার

স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনা নেই

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ২২ নভেম্বর ২০২০

image

করোনার পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ব্যবসার চেয়ে স্বর্ণ কিনে রাখাকে বেশি নিরাপদ মনে করেছে বিনিয়োগকারীরা। আর এই কারণে বিশ্ব বাজারে এই ধাতুটির দাম একেবারে আকাশ ছোঁয়া অবস্থায় চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছরের শেষের দিকে ধাতুটির দাম কমে আসবে। তবে দাম কমাতো দূরের কথা, বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই বছরের তো কমবেই না বরং আগামী বছর স্বর্ণের দাম নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে। ব্লুমবার্গ।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকেই স্বর্ণের বাজার তুলনামূলক চাঙ্গা হতে শুরু করে। এর প্রধান কারণ চীন থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পরা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করা হলে মূল্যবান ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধি আরও জোরালো হয়। চলতি বছরজুড়ে জুয়েলারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক খাতে স্বর্ণের চাহিদা কম ছিল। এরপরও মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে। এর পেছনে কাজ করেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার অনিশ্চয়তা। যেকোন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মন্দার সময় বিশ্বজুড়ে সেফ হেভেন বা নিরাপদ বিনিয়োগ উৎস হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। করোনাকালে শেয়ার ও মুদ্রাবাজারের অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বর্ণ নিয়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে। ফলে বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে দাম। এ ধারাবাহিকতায় গত আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ইতিহাসে এর আগে কখনই এতো দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়নি। মূলত এ সময় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ মূল্যবান ধাতুটির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তবে আগস্টের পর স্বর্ণের দাম রেকর্ড অবস্থান থেকে কিছুটা কমে এসেছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ হাজার ৯০০ ডলারের আশপাশে বিক্রি হয়েছে। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চিত পরিস্থিতি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯০০ ডলারের আশপাশে ধরে রেখেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা হলেও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মনেও স্বস্তি ফেরেনি। এদিকে করোনা মহামারী পরিস্থিতির দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপ-এশিয়ার দেশগুলোয় সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা লেগেছে। প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ রোগী বাড়ছে। বাড়তির দিকে রয়েছে মৃত্যু। ফলে করোনা মহামারী বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ ঝুঁকি আগামী দিনগুলোতেও বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখবে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। ফলে সহসাই স্বর্ণের দাম কমে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং মূল্যবান ধাতুটির দাম আরও বাড়তে পারে। ২০২১ সাল নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের সম্ভাব্য দাম ২ হাজার ৩০০ ডলারে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠানটির, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যদিয়ে ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দামে নতুন রেকর্ড হতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক মন্দার সময় দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার চাঙ্গা থাকে। এর আগে ২০০৮ সালের মন্দার সময়ও একই চিত্র দেখা গেছে। এবার করোনার কারণে ২০২০ সালের শুরু থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এখন মূল্যবৃদ্ধির হার শ্লথ হয়ে এলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বাড়তির পথেই থাকবে।