• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ মহররম ১৪৪২, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭

সহজে ব্যবসা করার সূচকে ৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৯

image

সহজে ব্যবসা করা যায় এমন সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের র‌্যাংকিং করে বিশ্ব ব্যাংক। এই র‌্যাংকিংয়ে গতবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭৬ নম্বরে। এ বছর ৮ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের ‘ডুয়িং বিজনেস ২০২০’ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ব্যবসা পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার পর এবারের সূচকে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা ২০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একটি দেশের অর্থ-বাণিজ্যের পরিবেশ দশটি মাপকাঠিতে তুলনা করে এই সূচক তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝতে ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের তথ্য। এই দশটি মাপকাঠি হল- নতুন ব্যবসা শুরু করা, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি পাওয়া, বিদ্যুৎ সুবিধা, সম্পত্তির নিবন্ধন, ঋণ পাওয়ার সুযোগ, সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তি বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া হওয়া ব্যবসার উন্নয়ন। সব মিলিয়ে ১০০ ভিত্তিক এই সূচকে বাংলাদেশের মোট স্কোর হয়েছে এবার ৪৫, যা গতবছর ৪১ দশমিক ৯৭। স্কোর ও র‌্যাংকিংয়ে এই উন্নতির পরও ব্যবসার পরিবেশে দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ছাড়া সবার চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার করায় ভারতের অবস্থানের ১৪ ধাপ অগ্রগতি হয়েছে; ৭১ স্কোর নিয়ে উঠে এসেছে সূচকের ৬৩ তম অবস্থানে। আর ৪৪.১ স্কোর নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তান সূচকের ১৭৩ নম্বরে রয়েছে, এবারের সূচকে দেশটির অবনতি হয়েছে ছয় ধাপ। এছাড়া ভুটান এ সূচকের ৮৯তম (স্কোর ৬৬), নেপাল ৯৪তম (৬৩.২), শ্রীলঙ্কা ৯৯তম (৬১.৮), পাকিস্তান ১০৮তম (৬১), মালদ্বীপ ১৪৭তম (৫৩.৩), মায়ানমার ১৬৫তম (৪৬.৮) অবস্থানে রয়েছে।

এ উপলক্ষে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, এবার আমাদের অবস্থান ১৬৮তম। এবার আমরা আগের চেয়ে আট ধাপ এগিয়েছি। আগে কখনও এত পয়েন্ট জাম্প আমরা করতে পারিনি। এই অগ্রগতির জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আট ধাপ এগিয়ে এলেও আমরা মনে করব না এটা আমাদের অনেক বড় অর্জন। আমাদের লক্ষ্য আগামী বছর আমরা উল্লেখযোগ্য একটা অগ্রগতি চাই। আমরা টার্গেট করব যেন ডবল ডিজিটে আসতে পারি। গত ৩-৪ বছর ধরেই এ নিয়ে কাজ হচ্ছিল। কিন্তু আমাদের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছিল না। নিয়মটা হল, এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রতি বছরের যা রিফর্মস হয়, সেই রিফর্মসের ওপর ভিত্তি করে তারা অক্টোবরে ফলাফল দেয়। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিশ্ব ব্যাংক যখন র‌্যাংকিং শুরু করে, বাংলাদেশ খারাপ অবস্থানে ছিল। সর্বশেষ আমাদের অবস্থান ছিল ১৭৬তম। তার আগে আরও খারাপ ছিল।

এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আপনি যদি প্রতিবেদনটা দেখেন, ১০টা মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত ৬০টি ইস্যুতে রিপোর্ট করতে হয়। প্রতিটাকেই কিন্তু গুরুত্ব দিতে হবে। সবগুলো ক্ষেত্রেই আমাদের উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। সবাই মিলে আন্তরিকভাবে কাজ করে গেলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, দশ মাপকাঠির মধ্যে ছয়টিতেই বাংলাদেশের স্কোর গতবারের চেয়ে বেড়েছে। এর মধ্যে ঋণ পাওয়ার সুযোগে স্কোর বেড়েছে ২০ শতাংশ পয়েন্ট। চারটি মাপকাঠিতে এবারের স্কোর গতবারের সমান। শুধু অবনতি হয়েছে দেউলিয়া হওয়া ব্যবসার উন্নয়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে। ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সহজে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ফি কমানো হয়েছে এবং ডিজিটাল সনদে মাশুল উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ঢাকা নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের ফি অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো ও ডিজিটাইজেশনে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যুৎ উপদেষ্টা এবং প্রধান বৈদ্যুতিক পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে লাইন্সে গ্রহণের সময়ও কমানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ-বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড; সূচকে তাদের স্কোর ৮৬.৮। শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হল সিঙ্গাপুর, হংকং, ডেনমার্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জর্জিয়া, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইডেন। গতবারের মতো এবারও সূচকে সোমালিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। আফ্রিকার এই দেশটির স্কোর ২০।