• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬, ৫ শাবান ১৪৪১

শেয়ারবাজারে সূচকের বড় উত্থানেও কাটেনি আতঙ্ক

ডিএসইতে কমেছে লেনদেন

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

শেয়ারবাজারে টানা পতনের পর গতকাল সূচকের বড় উত্থানেও আতঙ্ক কাটেনি বিনিয়োগকারীদের। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) বাড়ানো এবং গ্রামীণফোনের (জিপি) সমস্যা সমাধানে অর্থমন্ত্রীর ইতিবাচক ইঙ্গিতের কারণে শেয়ারবাজারে এ উত্থানের দেখা মিলেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, মূল্য সূচকের বড় উত্থান হলেও শেয়ারবাজারে লেনদেনের তেমন উন্নতি হয়নি। শেয়ারবাজারে তারল্য সংকটের কারণে লেনদেন তেমন বাড়েনি। এদিকে গ্রামীণফোনের সমস্যা সমাধানে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ার দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। কিছুদিন আগেও এ কোম্পানির শেয়ার দাম টানা কমতে দেখা গেছে। শেয়ারবাজারের সব থেকে বড় মূলধনের কোম্পানির দরপতনে সার্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। গতকাল গ্রমীণফোনের শেয়ার দাম বাড়ায় সার্বিক শেয়ারবাজারেও ইতিবাচাক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে মুন্নু সিরামিকসহ বেশ কিছু শেয়ারের দর অনেক কমেছিল, সেইসব শেয়ারের দর বৃদ্ধির ফলেও বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা বলেন, গ্রামীণফোনের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সরকার পিছু হঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু এ পদক্ষেপ যদি আগে নেয়া হতো তাহলে হয়ত শেয়ারবাজার খাদের কিনারে আসত না। তারপরও নীতি নির্ধারকদের যে বোধদয় হয়েছে, সেটা ভালো লক্ষণ। শেয়ারবাজারে গ্রামীণফোনের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম বাড়া-কমা সূচকে বড় প্রভাব ফেলে। একাধিক বিনিয়োগকারী বলেন, রোববার সূচকের বড় উত্থানের পেছনে বড় অবদান রেখেছে গ্রামীণফোন। মূলত এ কোম্পানির শেয়ার দামে বড় উত্থান হওয়ায় বাজারে বড় উত্থান হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম আগের দিনের তুলনায় ২৪ টাকা বা ৮ শতাংশের ওপরে বেড়েছে। গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম বাড়ার প্রভাব অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানের ওপরও পড়েছে। ফলে সব খাত মিলে ডিএসইতে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১০৬টির। আর ৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৬৬ পয়েন্টে রয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পতনের পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে।

এর আগে টানা পতনের মধ্যে শেয়ারবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে গত সোমবার অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর ওই বৈঠকের পর মঙ্গলবার ব্যাংকের এডিআর বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরের দিন বুধবার অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন গ্রামীণফোনের কাছ থেকে বকেয়া আলোচনার মাধ্যমে আদায় করা হবে। অর্থমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর বৃহস্পতিবার গ্রামীণফোনের শেয়ার মূল্যে বড় উত্থান হয়। রোববারও তার ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকায় শেয়ারবাজারেও বড় উত্থানের দেখা মিলল।

বাজার বিশ্লেষনে দেখা গেছে, গতকাল মূল্য সূচকের বড় উত্থান হলেও ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩০৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৮৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ডিএসইতে গতকাল টাকার পরিমাণে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু জুট স্টাফলার্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার। ১১ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জ। এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- ন্যাশনাল টিউবস, ফরচুন সুজ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, মুন্নু সিরামিক, ওয়াটা কেমিক্যাল, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এবং স্টাইল ক্রাফট।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৪৬ পয়েন্টে। গতকাল সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ৭৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টির দাম।