• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১

শেয়ারবাজারে সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন অর্থমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২০

image

করোনাভাইরাসের প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়ায় বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরে রাখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ইতোমধ্যে বাজারকে স্থিতিশীল করার নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সার্কিট ব্রেকার আরোপসহ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। যদিও শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন থাকবেই, তথাপি বাজারকে গতিশীল করাই বড়ো কথা।

সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী বাজার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরে রাখছেন। তিনি প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন যেন বাজারকে গভীর ও গতিশীল করা যায়। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে তিনি একাধিক আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য, ব্যাংকার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বাজারে নতুন কোম্পানি আনাসহ আনুষঙ্গিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে যেন বিনিয়োগকারীরা আশান্বিত হয়। লাভজনক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ নেয়াসহ বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগে বাজারকে গতিশীল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তার তীক্ষè নজরদারি করছেন।

বাজার সংশ্লিষ্ট জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে ক্রমাগত শেয়ার বিক্রির চাপ যখন বাড়ছিল, তখন ফোর্সড সেলের কারণে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। সে অবস্থায় ১৬ মার্চ কিছু সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। বাজার উন্নয়নে এসব পদক্ষেপের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৩টি ব্যাংক এই তহবিল গঠন করেছে। করোনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম কয়েক দিন ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।

গত ১৬ মার্চ শেয়ারবাজার নিয়ে এক মতবিনিময় সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার বিনিয়োগ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তারা সবাই বাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগ করবেন। ওই সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন ও কমিশনাররা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখারসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, প্রত্যেকটি তফসিলি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। সে হিসেবে মোট ৬০টি তফসিলি ব্যাংককে ১২ হাজার কোটি টাকা দেয়া হবে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংককে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার জন্য ২০০ কোটি টাকার তহবিল দেয়ার ঘোষণা দেয়। সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকসমূহ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত যে কোন কার্যদিবসে রেপোর মাধ্যমে বর্ণিত ২০০ কোটি টাকার সীমার মধ্যে যে কোন অঙ্কের তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সংগ্রহ করতে পারবে। রেপোর সুদের হার ৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকবে এবং কোন প্রকার অকশনের প্রয়োজন হবে না। ব্যাংকের এই বিনিয়োগের পর ও ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়ার পর শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে শুরু করেছে।