• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭ ১২ রজব ১৪৪২

লকডাউনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঈদমুখী ব্যবসায়ীরা

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২০

image

গত বছর ঈদুল ফিতরে বেচাকেনায় ব্যস্ত একটি শাড়ির দোকান। তবে এবার এই চিত্র হয়তো দেখা যাবে না।

কেন্দ্র করে জমে উঠে দেশের ফ্যাশন হাউজ ও বড় বড় শপিংমলের জমজমাট ব্যবসা। প্রতিবছরই এই সময়টির অপেক্ষায় থাকে ব্যবসায়ীরা। সারাবছর তাদের যে পরিমাণ ব্যবসা হয় তার বড় অংশই ঈদের আগের কয়েক দিনই করেন তারা। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম হতে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের কারণে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান ছুটির কারণে গত প্রায় দেড় মাস যাবত বন্ধ রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া আর সব ধরণের দোকানপাট। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সব ধরনের পোশাকের দোকান। সারাদেশে সব ধরনের শপিংমল, বাজার এবং দোকানপাট বন্ধ থাকায় কিছু ফ্যাশন হাউজ এবং দোকান ক্রেতাদের কাছে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা শুরু করলেও তার পরিধি চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পের উদ্যোক্তাদের সংগঠন ফ্যাশন অন্ট্রাপ্রনার্স অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, তাদের আনুমানিক হিসেব অনুযায়ী সারাদেশে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শ্রমিকদের এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি। শাহীন আহমেদও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ফ্যাশন হাউজগুলোর সঙ্গে কাজ করা শ্রমিকদের অনেকেই এই খাত থেকে সরে গিয়ে অন্য খাতে কাজ করতে বাধ্য হতে পারেন। তিনি বলেন, বড় ফ্যাশন হাউজগুলো যখন তাদের জন্য পণ্য তৈরি করা তাঁতি বা শ্রমিককে পুরো মূল্য পরিশোধ করতে পারবে না, তখন তাদের কাজও থমকে যাবে। কারণ অধিকাংশ সময় তারাও মাঝারি বা ক্ষুদ্র পরিসরে প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নিয়ে বড় হাউজগুলোর জন্য পণ্য তৈরি করে। সেই শ্রমিকরা যখন তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, তাদের অনেকেই অন্য খাতে কাজ করে ঋণ শোধ করতে চাইবে। ফলে তারা কাজ পরিবর্তন করে অন্য খাতে শ্রম দেবে, যা পণ্যের গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সারাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার ফ্যাশন হাউজ তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ বছর রোজার ঈদে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্য বিক্রি হবে বলে আমাদের ধারণা ছিল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ছয় দফা বাড়িয়ে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয় ১৬ মে পর্যন্ত। আর এই সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পোশাকের দোকান বন্ধ থাকার ফলে পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) পণ্য বিক্রি করতে পারেনি ফ্যাশন হাউজগুলো, যার ফলে ওই দফায় বড় অঙ্কের ক্ষতির সম্মুখীন হয় তারা। এবার রোজার ঈদের আগে ফ্যাশন হাউজ এবং পোশাকের দোকানগুলোর কার্যক্রম শুরু না হলে দেশীয় পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষের জীবন তো বটেই, পুরো শিল্পই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে একটি তৈরি পোশাকের দোকান রয়েছে জাবেদ আক্তারের। তিনি দোকানে মূলত নারীদের পোশাকই বিক্রি করে থাকেন। জাবেদ আক্তার বলেন, বছরের দশ-এগারো মাস ব্যবসায় ক্ষতি হলেও রমজান মাসে সারাবছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকে তাদের কাছে, যেটি এই বছর হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ঈদকে সামনে রেখে ঋণ করে কিছু টাকা অগ্রিম দিয়ে নানা ধরনের পণ্য তুলেছি দোকানে। ঈদে বিক্রির টাকা পাওয়ার পর সেই টাকা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকার কারণে বিক্রি না হওয়ায় ঋণও শোধ করতে পারব না, পণ্যের দামও দিতে পারব না। আর এই ক্ষতির রেশ আগামী অন্তত এক বছর ধরে তাকে টানতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন জাবেদ আক্তার।

এছাড়াও দোকানপাট বন্ধ থাকায় তৈরি পোশাক বিক্রির দোকান মালিকদের পাশাপাশি বিপদে পড়েছেন অন্য শিল্প খাতের বড়-ছোট উদ্যোক্তারাও। দেশি উদ্যোক্তাদের সবাই গত প্রায় দেড় মাস ধরে তাদের বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ রাখায় এই উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করা ক্ষুদ্রশিল্প, কুটির শিল্প ও দেশজ বুননশিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সীমিত পরিসরে মার্কেট খুললেও ক্রেতা সংকট : এ পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও ক্রেতাদের ভিড় নেই। অনেকটাই ক্রেতা সংকটে ভুগছেন দোকানিরা। গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১, ২, ১০, ১১, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, তালতলা ও কারওয়ান বাজার ও পান্থপথ এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে অল্প পরিসরে সকাল থেকে মার্কেট খুলেছি। তবে বেলা বাড়লেও মার্কেটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। অনেক দোকানদার এখন পর্যন্ত সাইদ করতে পারেননি। যাও দু’একজন ক্রেতা মার্কেটে ঢুকছেন দেখে শুনে চলে যাচ্ছেন, কিনছেন না। জানি না আগামী দিনগুলো কী অবস্থায় যাবে বুঝতে পারছি না। তবে সকাল থেকে প্রতিটি মার্কেটের প্রবেশ মুখেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক দোকানিই হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছেন। কাস্টমার যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিতে উৎসাহিত করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া ক্রেতারা মার্কেটের প্রবেশ মুখ থেকেই হাত পরিষ্কার করেই মার্কেটে প্রবেশ করছেন। দোকানগুলোর ভেতরেও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বৃত্তের ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে অনেক ব্যবসায়ীকে। ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আমরা সেটি মেনে চলবো এবং ক্রেতা সাধারণকেও সেটি মেনে চলার অনুরোধ জানাব।

এদিকে সরকার অনুমতি দিলেও শপিংমল থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ও যমুনা ফিউচার পার্ক খুলেনি। একইসঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ শপিংমলও বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের বাজার করার জন্য শপিংমলে ভিড় বাড়বে। আর এ ভিড় থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। গত ৪ মে সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয়, সারাদেশের দোকানপাট, শপিংমলগুলো আগামী ১০ মে থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এর আগে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। পরের নির্দেশনায় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে।