• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে, তা কঠিন কিছু নয়। রপ্তানিকারকরা আন্তরিক হলে অতি সহজেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। -মো. মফিজুল ইসলাম।

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৮ আগস্ট ২০১৯

চলতি অর্থবছরে (২০১৯-১৯২০) ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (পাঁচ হাজার ৪শ কোটি) রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৪৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা রপ্তানি ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম রপ্তানির এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।

রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে সিনিয়র সচিব বলেন, এবার পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ২৫ ভাগ এবং সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩৪ দশমিক ১ ভাগ। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মোট রপ্তানি ছিল ৪৬ দশমিক ৮৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি হয়েছে ৪০ দশমিক ৫৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ দশমিক ৯৪ ভাগ বেশি ছিল। অপরদিকে গত বছর সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এর বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৬ দশমিক ৭৭ ভাগ বেশি ছিল।

রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে, তা কঠিন কিছু না। রপ্তানিকারকগণ আন্তরিক হলে অতিসহজেই এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত বছর রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে ১১ দশমিক ৪৯ ভাগ, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ৩৪ দশমিক ৯২ ভাগ, প্লাষ্টিক পণ্য রপ্তানিতে ২১ দশমিক ৬৫ ভাগ, ফার্মাসিটিকেলস পণ্য রপ্তানিতে ২৫ দশমিক ৬০ ভাগ। পণ্য রপ্তানিতে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৫৫ ভাগ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) মো. শফিকুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন, ডব্লিউটিও উইংয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. কামাল হোসেন এবং বিভিন্ন সেক্টরের রপ্তানিকারকগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বাংলাদেদের রপ্তানি আয় বেড়েছে। বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ (৪০.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।

এই অঙ্ক লক্ষ্যের চেয়ে ৪ শতাংশ এবং আগের অর্থবছরের (২০১৭-১৮) চেয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ বেশি। মূলত তৈরি পোশাকের ওপর ভর করে রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়েই অর্থবছর শেষ করেছে বাংলাদেশ। মোট রপ্তানির ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। তবে শেষ মাস জুন ভালো যায়নি। এই মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ২২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত বছরের জুনের চেয়ে কমেছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। সে কারণে ১১ মাসে (জুলাই- মে) যেখানে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল; অর্থবছর শেষে তা ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। আগের বছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ (৩৪.১৩ বিলিয়ন) ডলারের তৈরি পোশাক পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশ। গত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৬৮৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। উভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৭২৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার: প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এরপর অন্যান্য রপ্তানি খাতগুলো হলো, চামড়া খাত, পাট পণ্য, হিমায়িত চিংড়ি, ওষুধ ও কৃষি খাতসমুহ।