• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১৮ জিলকদ ১৪৪১

রপ্তানি বাণিজ্যে যোগ হতে যাচ্ছে পিপিই

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০

image

রাজধানীর ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় পিপিই তৈরি করছেন কর্মীরা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে হাসপাতালগুলোতে এখন ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পিপিই’র বৈশ্বিক চাহিদাও ব্যাপক আকারে বেড়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করতে চায় পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

বিজিএমইএ’র চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বমানের পিপিই তৈরি করে রপ্তানি করা, যা অতি দ্রুত সম্পূর্ণ করতে কাজ করছে চায় তৈরি পোশাক খাতে এ শীর্ষ সংগঠনটি।

এজন্য আগামী ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে রপ্তানিযোগ্য বিশ্বমানের পিপিই উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে বিশ্বমানের পিপিই’র ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি শুরুতে ওই বাজার ধরতে পারে তাহলে পোশাক-শিল্প রপ্তানি বাণিজ্য আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বর্তমানে বিজিএমইএ কমপক্ষে ২০ হাজার পিপিই দেয়ার জন্য পরিকল্পনা করছে। মূলত আমরা যা বানাচ্ছি প্রথম স্তরের পিপিই। কিন্তু করোনার চিকিৎসা কাজে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রয়োজন তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের পিপিই। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য বিশ্বমানের ওই ধরনের পিপিই তৈরি করা, যা বিদেশে রপ্তানি করা যায়। আমরা ইতোমধ্যে আইএলও, ডব্লিউএইচও, ডব্লিএফপি, ইউনিসেফ এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, মানসম্মত পিপিই উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার কাছে সহায়তা চেয়েছি। তারা প্রযুক্তিগতসহ এ সেক্টরে মার্কেট তৈরিতে সহায়তা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। এই প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে সম্পন্ন। তাদের সহায়তায় আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এই সেক্টরকে কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নত করতে পারব এবং চতুর্থ ধাপের পিপিই তৈরি করার মতো ক্ষমতা ও জ্ঞান অর্জন করবে আমাদের গার্মেন্টস খাত।

বিজিএমইএ সূত্রে আরও জানা যায়, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপটি যেহেতু বেড়েছে। সেখানে দেশে পিপিই অভাব রয়েছে। এটি কেবল চিকিৎসক এবং নার্সদের নয়, সমস্ত হাসপাতালের কর্মীদের প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান পিপিই চাইছে। পিপিই স্থানীয়ভাবে আমাদের পোশাক উৎপাদকদের দ্বারা তৈরি হয় না।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী মানসম্মত পিপিই ফ্যাব্রিক আমদানি করতে হয় মূলত চীন থেকে। তদুপরি চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য পিপিই স্যুট তৈরি করতে হয় তবে কারখানাগুলোকে সেলাইসহ কিছু বিশেষ যন্ত্রপাতি দরকার হবে। কারখানায় জীবাণুমক্ত পরিবেশও বজায় রাখতে হবে। প্রশিক্ষণও প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে কোন কারখানার জন্য কমপক্ষে ৬ মাস বা তার বেশি সময় লাগবে।

বিজিএমইএ’র সভাপতি জানান, বর্তমানে বিজিএমইএ’র অনেক সদস্য পিপিই পোশাক বিতরণ করছেন। আমরা কিছু পোশাক ক্রয় করে তহবিল দেয়ারও পরিকল্পনা করছি। এছাড়া ফেব্রিক কারখানাগুলো যারা বিজিএমইএর সদস্য তারাও সংহতির লক্ষণ হিসেবে কম দামে ফ্যাব্রিক বিক্রি করছে।

এদিকে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ‘স্নোটেক্স গ্রুপ’ করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংকটময় এই পরিস্থিতিতে ৫০ হাজার পিপিই তৈরি করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৭ হাজার পিপিই বিজিএমইএ, এমএন্ডএস এবং বুয়েটের সহায়তায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাংবাদিকদের মাঝে। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যেই স্নোটেক্স এই ৫০ হাজার পিপিই তৈরি করবে বলে আশাবাদী।

প্রাথমিকভাবে, ইতোমধ্যেই প্রস্তুতকৃত ৫০০ পিপিই সরাসরি চিকিৎসকদের কাছে সরবরাহ করা হবে তাদের মতামত সংগ্রহের জন্য। পরবর্তীতে এই মতাতের প্রেক্ষিতে পিপিই’র প্যাটার্ন পরিবর্তন বা সংযোজন করা হতে পারে।

এছাড়াও পিপিই বিক্রয়ের ক্ষেত্রে, সম্পূর্ণরূপে অলাভজনক হিসেবে কাজ করবে ‘স্নোটেক্স’। বিশ্ব তথা দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে ‘স্নোটেক্স’ থেকে সরবরাহকৃত এই পিপিই সম্পূর্ণ গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারড। পিপিইটি শতভাগ পলিস্টার টাফেটার উপরে পিইউ কোটিং-এর ফেব্রিক দিয়ে আপাতত জরুরিভাবে প্রস্তুত করছে ‘স্নোটেক্স’। পিপিইটি তৈরিতে কাপড়ের টেস্টিং পেরিমিটার- ৩০ সেকেন্ড ৩ পিএসআই চাপে, সেলায়ের পরে শতভাগ সিমসিলিং টেপ ব্যবহার করা হবে।

ইতোমধ্যেই ডিজি হেলথ থেকে বুয়েট এই পিপিই এর জন্য অনুমোদন নিয়েছে। প্রস্তুতকৃত এই পিপিইটি শতভাগ প্রফেশনাল পিপিই না হলেও সংকটময় এই মুহূর্তে জীবন রক্ষার্থে অনেকাংশেই সাহায্য করবে।