• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মহররম ১৪৪১

রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১১.৯২ শতাংশ

মে মাসে প্রবৃদ্ধি ১৪.৭৮ শতাংশ

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ১২ জুন ২০১৯

image

রপ্তানিতে পোশাক খাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। এর পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে তিন হাজার ৭৭৫ কোটি মার্কিন ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে সর্বশেষ মে মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৫৪০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে তিন হাজার ৭৭৫ কোটি ডলার। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল তিন হাজার ৩৭২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।অন্যদিকে, মে মাসে ৩৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। সুতরাং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় গত মাসে রপ্তানি আয় ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি হয়েছে। গত অর্থবছরের মে মাসে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৩২ কোটি ২৪ লাখ ডলার। প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিকভাবে ভালো হওয়ায় রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই)’র সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মূলত পোশাক নির্ভর। রপ্তানিতে পোশাক খাতের অবদান দিন দিন বাড়ছে। এর পাশাপাশি ব্যবসায় পরিবেশ বিশেষ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

তিনি রপ্তানি আয় সম্প্রসারণে প্রচলিত বাজার ছাড়াও নতুন বাজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং পণ্য বহুমুখীকরণ বিশেষ করে বেশি মূল্য সংযোজন হয় এমন পণ্য রপ্তানির প্রতি মনোযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সহসভাপতি ড. আবদুল হান্নান বলেন, ব্যবসায় অনুকূল পরিবেশ আগের তুলনায় ভালো হওয়ায় পোশাক খাত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে অবকঠামো খাতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা গেলে রপ্তানি আয় আরও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাড়াতে বৈচিত্র্যপূর্ণ শিল্প পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দেয়ার সুপারিশ করেন।

ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ও প্রবৃদ্ধি উভয়ই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেড়েছে। দুই হাজার ৯৬৭ কোটি ১৫ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১৭৩ কোটি ২৮ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ। গতবছরের একইসময়ে এই খাতে রপ্তানি ছিল দুই হাজার ৮১২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

জুলাই-মে সময়ে নিট পণ্যের (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৪৬৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল এক হাজার ৩৯৪ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে ওভেন পণ্যের (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। এক হাজার ৫০১ কোটি ২৩ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৬০৫ কোটি ১৪ লাখ ডলারের। গতবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪১৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

জুলাই-মে এই ১১ মাসে অন্যান্য বড় রপ্তানি পণ্যের মধ্যে প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে। এই খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার, যার প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। আসবাবপত্র ও সিরামিক পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করার মতো। এ সময়ে ৬ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের আসবাবপত্র রপ্তানি হয়েছে। এর প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ। সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের, যার প্রবৃদ্ধি ৬৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে চামড়া ও চামড়জাত এবং পাট ও পাট পণ্যের রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।

গতবছরের প্রথম ১১ মাসে চামড়া ও চামড়জাত পণ্যের রপ্তানি ছিল ৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার, এবারের একই সময়ে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য, মাছ, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি, টেরিটাওয়েল, হস্তশিল্প পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে।