• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, ২০ জিলকদ ১৪৪১

মুজিববর্ষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন করতে চায় এনবিআর

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২০

image

মুজিববর্ষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শতভাগ সফলতা দেখাতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত কয়েক বছর ধরে এনবিআর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার পুরোপুরি অর্জন করতে পারছে না। এজন্য মুজিববর্ষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার মাধ্যমে উদযাপন করতে চায় সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, মুজিববর্ষে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক বিভাগের মাধ্যমে আলাদা আলাদা লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ অফিসে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এছাড়া কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ই-টিআইএন) সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করতে চায়। দেশে বর্তমানে ই-টিআইএনধারীর সংখ্যা ৪৬ লাখের ওপরে। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা ২২ লাখেরও কম। অর্থাৎ ই-টিআইএনধারীর মধ্যে অর্ধেকও তাদের আয়কর বিবরণী জমা দেয় না। সব ই-টিআইএনধারীরই প্রতি বছর তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব বা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ৩ লাখে উন্নীত করা ও ভ্যাট দাখিলপত্রের হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করা। বর্তমানে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৯৮টি প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন আছে, এর অর্ধেক নিয়মিত দাখিলপত্র দেয়। এছাড়া ও রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয়কর আদায়ে ঘাটতি ১৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ৫৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর আদায় হয়েছে ৪৩ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। বৃহৎ করদাতা ইউনিটসহ (এলটিইউ) ৩১টি কর অঞ্চলের মাধ্যমে আয়কর আদায় করে থাকে এনবিআর। এর মধ্যে ২৪টি কর অঞ্চলই আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য মো. মেফতাহ উদ্দিন খান সংবাদকে বলেন, অর্থবছরের প্রথম ১০ থেকে ১১ মাস রাজস্ব আদায়ের গতি কম থাকে। অর্থবছরের শেষদিকে রাজস্ব আদায় বাড়ে। অধিকাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান জুন মাসে গিয়ে তাদের কর দেয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেনÑ টাকা যতদিন তাদের কাছে থাকবে ব্যবসা করতে পারবে। তাই অর্থবছরের শেষদিকে এসে টাকা দেয়। বছরের ১১ মাসে যত রাজস্ব আদায় হয়, জুন মাসেই এর সমান আদায় হয়। তাই মুজিববর্ষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে বলে মনে করেন।

এদিকে গত অর্থবছরের সাত মাসে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। এবার তার পরিমাণ ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। তবে গত পাঁচ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

এদিকে যখন বাজেট ঘোষণা করা হয় তখনই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছিলেন, যে ধরনের জনশক্তি কাঠামো রয়েছে এনবিআরের তাতে এত বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগসহ (সিপিডি) বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বলেছিল, বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। যদিও এনবিআর বলেছিল, এটি আদায় তাদের পক্ষে কঠিন হবে না। সংস্থাটি এটিও বলেছিল, লক্ষ্য অর্জনে তারা বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বাজেটের পর প্রথম এনবিআর পরিদর্শনে এসে বলেছিলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতেই হবে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংসদে পাস হওয়ায় এটি আইন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারা আইন লংঘনের সামিল। তাই চলতি অর্থবছরে এটি মেনে নেয়া হবে না।