• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহন

| ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০

image

করোনায় পণ্য পরিবহন না হওয়ায় একটি স্টেশনে এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে আছে পণ্যবাহী যানবাহন

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চলমান বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যাহত হচ্ছে পণ্য পরিবহন। মূলত ট্রাক সংকটের কারণে পণ্য পরিবহনে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানী থেকে জরুরিভিত্তিতে খাদ্যপণ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো যাচ্ছে না। একইভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও খাদ্যপণ্য রাজধানীতে আনা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রাজধানীসহ সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। নিরাপত্তার স্বার্থে চালক ও হেলপাররা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হতে চাইছেন না। আর মালিকরা ভয় পাচ্ছেন লোকসানের।

মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলমান পরিস্থিতিতে অনেক চালক ও হেলপার বাড়ি চলে গেছেন। যারা আছেন, তারাও নিরাপত্তার কারণে রাস্তায় নামতে চাইছেন না। এছাড়া, দেশব্যাপী খাবার হোটেল বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘপথে ট্রাকের চালক ও হেলপারের খাবারের প্রয়োজন হয়। তারা রাস্তায় খাবার পাচ্ছেন না। অপরদিকে গাড়ি রাস্তায় অকেজো হয়ে পড়লে মেরামতেরও ব্যবস্থা নেই। কারণ, দেশের সব ওয়ার্কশপ বা গ্যারেজ বন্ধ রয়েছে। তাই এ অবস্থায় ট্রাক রাস্তায় নামানোর ভরসা পাচ্ছেন না তারা।

তারা আরও বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। হয়তো ঢাকা থেকে পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক গেল। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার পথে ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য পণ্য নেই। একইভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীতে পণ্য পৌঁছে দিয়ে ট্রাকগুলোকে খালি ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন মালিকরা। তাই তারা এমন সিঙ্গেল ট্রিপে রাজি হচ্ছেন না।

ব্যবসায়ীরা বলেন, চালের অভাব নেই। কিন্তু করোনার কারণে ট্রাকের অভাবে নওগাঁ ও কুষ্টিয়া থেকে চাল আসতে পারছে না। তাই এই মুহূর্তে রাজধানীতে চাল সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় বাজারে চালের দাম বেড়েছে। পরিবহন সমস্যার সমাধান না হলে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করেন তারা।

একজন অটোরাইস মিল মালিক বলেন, রাজধানী থেকে কোন ট্রাক আসছে না। তাই পর্যাপ্ত চাল মজুত থাকার পরেও রাজধানীতে পাঠাতে পারছি না। তার আশঙ্কা, অবিলম্বে এর সমাধান করা না গেলে চাল সরবরাহ ঠিক রাখা কঠিন হবে।

জানা গেছে, নানা কারণেই পরিবহন সংকট রয়েছে। আর এ কারণে আমাদেরও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পৌঁছে দেয়া কঠিন হচ্ছে। তারপরও আমরা সব ধরনের নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাস্তায় গ্যারেজ বন্ধ। খাবার হোটেল বন্ধ থাকাসহ নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। এসব কারণে চালক ও হেলপাররাও ঘরের বাইরে যেতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

রাজধানীর ট্রাক ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলেই ট্রাক চলছে না। ধরুন, রাজধানী থেকে একটি ট্রাক পণ্যবোঝাই করে চট্টগ্রাম বা বরিশাল পাঠালাম। গন্তব্যে পণ্য পৌঁছে দিয়ে ট্রাকটিকে ফেরার পথে খালি আসতে হয়। কারণ, ফেরার পথে রাজধানীতে নিয়ে আসার জন্য পণ্য পাওয়া যায় না। অথচ যাওয়া-আসার পথে ফেরির টোল, ব্রিজের টোলসহ নানা খরচ রয়েছে। এর ওপর পুলিশের হয়রানি তো রয়েছেই। লোকসান ও হয়রানি থেকে বাঁচতে ট্রাক গ্যারেজে রেখে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোন পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী খাদ্যপণ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। এর জন্য যা যা করার প্রয়োজন, সরকার তাই করবে। এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। প্রয়োজন হলে বিআরটিসির ট্রাকসহ বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পণ্য সরবরাহ ঠিক রাখা হবে।’