• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

ব্যাংকের বড় বিনিয়োগ আসছে শেয়ারবাজারে

১৫টি ব্যাংকের নির্বাহীদের সঙ্গে ডিএসই’র বৈঠক

| ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০

image

দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসতে যাচ্ছে শেয়ারবাজারে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি ব্যাংক বিনিয়োগ শুরু করেছে। বাকি ব্যাংকগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই বিনিয়োগ শুরু করবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে গতকাল ঢাকা স্টকএক্সেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমপক্ষে ১৫টি ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর আগে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দিয়ে প্রজ্ঞাপণ জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানা গেছে, ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠন করছে।

এ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যেই তিন ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এছাড়া আরও পাঁচটি ব্যাংক তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করছে। সেগুলো হচ্ছে- ন্যাশনাল ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। সিটি ব্যাংক ইতোপূর্বে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুবিধায় নেয়া ৫০ কোটি টাকা নবায়ন করেছে। ন্যাশনাল ব্যাংক প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ কোটি টাকার নিজস্ব অর্থায়নে তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে তহবিলের আকার বাড়াবে। এছাড়া রূপালী ব্যাংক ৮০ কোটি টাকা এবং ঢাকা ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ধারাবাহিক দরপতন ঠেকানো ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোন ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। তবে চাইলে এ তহবিল গঠনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রেপোর মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ নিতে পারবে। তবে মেয়াদ ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির বেশি নয়। কোন ব্যাংক এ সার্কুলারের আওতায় গঠিত তহবিল থেকে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিজে বিনিয়োগ করতে পারবে। বাকি ৬০ শতাংশ ওই ব্যাংকের শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সহযোগী ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকসহ অন্য ব্যাংকের স্বতন্ত্র ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ঋণ দিতে পারবে।

ব্যাংক কোম্পানির আইন অনুযায়ী, কোন ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা-সংক্রান্ত বিধান পালন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে। তবে বিনিয়োগের শর্ত দেয়া হয়েছে গঠিত তহবিলের অন্তত ১০ শতাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে যেসব ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে, যেগুলো বিগত তিন বছর ধরে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টানা তিন বছর ধরে অন্তত ১০ শতাংশ হারে লভ্যাংশ প্রদান করছে এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করার শর্ত দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গত ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ৬ দফা নির্দেশনার প্রেক্ষিতে পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিল সুবিধা ঘোষণা করে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অনুসারে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিটি ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে এই তহবিল গঠন করা যাবে। চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ধারণকৃত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সুবিধা নেয়া যাবে। পুনঃঅর্থায়নযোগ্য এই তহবিলের মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত। এর সুদের হার ৫ শতাংশ। তহবিলের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, তা ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাব এর বাইরে থাকবে। বিশেষ তহবিল সুবিধা গ্রহণকারী ব্যাংক চাইলে সরাসরি নিজে বিনিয়োগ করতে পারবে, আবার ওই তহবিল থেকে ব্রোকার হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেয়া যাবে।

গতকাল ডিএসইর চেয়ারম্যান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। বৈঠকে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে তিনজন আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এই আতঙ্ক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই গত সোমবার বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে লেনদেন শুরু হওয়ার প্রথম মিনিট থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সূচকে ধস নামতে শুরু করে। দিন শেষে ব্যাপক পতনে শেষ হয় শেয়ারবাজারের লেনদেন। ২০১৩ সালে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসইএক্স চালু হওয়ার পর এত বড় ধস আর দেখা যায়নি।

গত সোমবার ডিএসই’র প্রধান সূচক ২৭৯ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪০০৮ পয়েন্টে। ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচকটি চালুর পর থেকে গতকালই সর্বোচ্চ পতন হয়েছে। সাত বছর আগে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি নতুন এই সূচক চালু হওয়ার পর এত বড় ধস আর ঢাকার বাজারে দেখা যায়নি। এর আগে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ ডিএসইএক্স ২০৭ দশমিক ৩ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ২২ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। এতদিন সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় ধস। ডিএসইএক্স ?সূচকের আগে ডিএসই জেনারেল ইনডেক্সকে (ডিজিইএন) এ বাজারের প্রধান সূচক গণ্য করা হত। দুই সূচক মিলিয়ে হিসাব করলে গত সোমবারের আগে বড় পতন হয়েছিল ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেদিন ডিজিইএন প্রায় ৩০৪ বা ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ পড়েছিল। শেয়ারবাজারের এই করুণ অবস্থা চাঙ্গা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে সরকার।