• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

প্রাক-বাজেট আলোচনা

বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আরোপিত কর পরিহার চায় বিপিএমসিএ

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২০

image

সকল বেসরকারি মেডিকেল কলেজের উপর আরোপিত ১৫ শতাংশ আয়কর রহিত করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ)। এর যৌক্তিকতা হিসেবে বিপিএমসিএ জানিয়েছে, দেশে বিদ্যমান বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী সব বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফলে এখান থেকে অর্জিত সব আয় মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হয়।

রাজধানীর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে গতকাল ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিপিএমসিএর প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বিপিএমসিএর পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি এমএ মুবিন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল এই প্রাক বাজেট আলোচনায় অংশ নেন। পাঁচ সদস্যের মধ্যে অন্যরা হলেন আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান এমপি, ইস্ট-ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মাইনুল ইসলাম ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের চেয়ারম্যান পৃথী চক্রবর্তী।

এ আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

এতে বিপিএমসিএর সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মুবিন খান ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংগঠনটির সুপারিশমালা তুলে ধরেন। এই সুপারিশমালায় আরও রয়েছে, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত যে সব যন্ত্রপাতি ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ দেশে তৈরি হয় না, ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানি হলে সেক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক রহিতকরণের অনুরোধ। এ সুবিধা পেলে আরও কম খরচে বা কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত প্রস্তাবও দেয়া হয়। সেবা খাতের সব বাড়ি ও অফিস ভাড়ার উপর ৪ শতাংশ হারে মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এ খাত শ্রম নির্ভর এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি সুফল ভোগ করে। আর বেশিরভাগ সেবা খাত ভাড়া করা কার্যালয় হতে পরিচালিত হয়। এছাড়া জনসাধরণের জন্য কর ব্যবস্থা আরও কীভাবে সহজ ও উন্নত করা যায়, এ নিয়েও সুপারিশ করা হয়।

এতে এমএ মুবিন খান বলেন, আমাদের এই প্রস্তাবনা জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১, এসডিজি লক্ষমাত্রা অর্জন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াসহ স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

এদিকে গতকাল আলাদা আরেকটি বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) ২০২০-২১ অর্থবছরে করপোরেট করহার ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয় সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

এদিকে বর্তমান জীবনধারণ ব্যয় ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তি শ্রেণীর করমুক্ত আয় সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাবও দেয় সংগঠনটি।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন এফআইসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেদার লেলে, রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদসহ নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা।

এদিকে ওই প্রস্তাবে ভিত্তিমূল্যের পরিবর্তে লেনদেনের মূল্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হিসাব করার দাবি জানিয়েছে এফআইসিসিআই। একই সঙ্গে বিলাসবহুল পণ্য ব্যতীত স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্যে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার চেয়েছে সংগঠনটি।

আলোচনার এক পর্যায়ে সংগঠনটির একজন সদস্য সিমেন্ট উৎপাদনকারীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন এইচএস কোডের আওতায় ৫ শতাংশ শুল্কহার দাবি করেন। অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে পর্যায়ক্রমে করপোরেট করহার কমানো উচিত। কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর বিনিয়োগ না হলে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না।