• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

বীমা খাতের বড় উত্থান শেয়ারবাজারে

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

এক সময়ে তলানিতে নেমে যাওয়া শেয়ারবাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সূচক লেনদেন ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও বেড়েছে বহুগুণে। এরমধ্যেও বেশি বেড়েছে বীমা খাতের শেয়ারদর। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, মহামারী করোনার প্রকোপের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শুরুর পর প্রথমদিকে সূচক কিছুটা কমলেও জুলাই থেকে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা দেয়। জুলাইয়ের শুরু থেকেই প্রায় প্রতিদিন বাড়তে থাকে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে লেনদেনের গতিও। এতে ২ জুলাই তিন হাজার ৯৮৬ পয়েন্টে থাকা ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক দেখতে দেখতে ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচ হাজার ১১৬ পয়েন্টে উঠে যায়। অর্থাৎ দেড় মাসে ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে এক হাজার ১৩০ পয়েন্ট। সূচকের এই বড় উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনেরও বড় উত্থান হয়। ৫০ কোটি টাকার ঘরে নেমে যাওয়া ডিএসইর গড় লেনদেন হাজার কোটি টাকায় উঠে আসে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে কিছুটা নি¤œমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। এতে সাড়ে ১৩-এর ওপরে উঠে যাওয়া মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) গত সপ্তাহ শেষে ১৩ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্টে নেমে গেছে।

জানা গেছে, বাজারের এ পরিস্থিতিতে সব থেকে বেশি অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে ব্যাংক কোম্পানিগুলো। অথচ এক সময় ব্যাংক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারের প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ব্যাংক খাতের ওপরই নির্ভর করতো শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন। কিন্তু খেলাপি ঋণ, পরিচালকদের অনৈতিক কার্যক্রমসহ ব্যাংক খাত সম্পর্কে একের পর এক নেতিবাচক তথ্য বেরিয়ে আসায় ব্যাংকের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অস্থায় ভাটা পড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দামে। যে কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৩-এর ওপরে থাকলেও ব্যাংক খাতের পিই রয়েছে ৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। গত সাড়ে চার মাসে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হলেও ব্যাংকের শেয়ার দামে তার খুব একটা প্রভাব পড়েনি। কারণ চার মাস আগেও ব্যাংক খাতের পিই ৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে ছিল। এদিকে ব্যাংকের তলানিতে পড়ে থাকার মধ্যে বীমা খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দামে বড় উত্থান হয়েছে। ফলে বীমা খাতের পিই রেশিও বেড়েছে। সাড়ে চার মাস আগে ১২ পয়েন্টে থাকা বীমা খাতের পিই এখন ১৯ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়নের অন্যতম হাতিয়ার মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও)। যে প্রতিষ্ঠানের পিই যত কম, ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ঝুঁকি ততো কম। সাধারণত যে সব প্রতিষ্ঠানের পিই ১০-১৫ এর মধ্যে থাকে সেই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ অনেকটাই ঝুঁকি মুক্ত।

ব্যাংকের পাশাপাশি কম পিইতে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ এবং সেবা ও আবাসন খাত। তবে এসব খাতের পিই এককভাবে ১০-এর ওপরে রয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ১২ দশমিক ২৭ পয়েন্ট, টেলিযোগাযোগের ১৩ দশমিক ২৬ পয়েন্টে, খাদ্যের ১৩ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট এবং সেবা ও আবাসনের পিই ১৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। পিই ১৫- এর ওপরে থাকা খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশলের ১৪ দশমিক ৮৩, বস্ত্রের ১৫ দশমিক ৯, চামড়ার ১৫ দশমিক ৯৯, তথ্য প্রযুক্তির ১৬ দশমিক ২৮, ওষুধ ও রসায়নের ১৯ দশমিক ৭১, বিবিধের ২৩ দশমকি ৫৮ এবং সিরামিকের ২৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর পিই সব থেকে বেশি থাকা খাতগুলোর মধ্যে- সিমেন্টে ২৬ দশমিক ৯৪, আর্থিক খাতের ২৯ দশমিক ৪১, ভ্রমণ ও অবকাশের ৩০ দশমিক ৯৩, পাটের ৩৭ দশমিক ২৬ এবং কাগজের ৪৬ দশমিক ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।