• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

বিআইপি’র গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ রাজধানীর ৮২ শতাংশ অঞ্চলই কংক্রিটে আচ্ছাদিত

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

image

দিনের পর দিন কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে জলাভূমিও দিন দিন কমছে। ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় নগর এলাকায় বর্তমানে কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা প্রায় ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে জলাভূমির পরিমাণ মোট এলাকার প্রায় ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। প্রয়োজনের তুলনায় জলজ ভূমি ও সবুজ এলাকার পরিমাণ কম। গতকাল রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘ঢাকা শহরের বায়ু, পরিবেশ ও বসবাসযোগ্যতার প্রেক্ষিত সবুজ এলাকা, জলাশয়, খোলা উদ্যান ও কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার বিদ্যমান অবস্থা’ বিষয়ক বি.আই.পি.’র গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জলজ ভূমি ও খালি জায়গা, কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে রজধানী শহর ঢাকা এখন বাসযোগ্যতার প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক মানদণ্ডে তলানিতে অবস্থান করছে। একটি আদর্শ শহরে ১৫-২০ ভাগ সবুজ এলাকা এবং ১০-১৫ ভাগ জলাশয় থাকা আবশ্যক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ক্রমান্বয়ে ঢাকা শহরের সবুজ এলাকা ও জলাশয়গুলো কংক্রিটের আচ্ছাদনে ঘিরে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সবুজ এলাকা, জলাশয় ও নির্মিত এলাকার ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পক্ষে ঢাকা শহরের বায়ু, পরিবেশ ও বসবাস যোগ্যতার প্রেক্ষিত সবুজ এলাকা, জলাশয়, খোলা উদ্যান ও কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার বিদ্যমান অবস্থা সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বি.আই.পি.-র সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান।

তিনি বলেন, একটি নগরের বাসযোগ্যতা নির্ভর করে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার উপর। নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর মানবঘটিত কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব এড়ানো এবং প্রাকৃতিক উপাদানসমূহের (পানি, বায়ু, মাটি, জলাশয় ইত্যাদি) দূষণরোধ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রভাবে ঢাকা শহর ও সংলগ্ন এলাকার কৃষিজমি, জলাশয়সহ নিচু এলাকাগুলো এবং সবুজের আচ্ছাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে শিল্প কারখানা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইট ভাটা এবং মাত্রাতিরিক্ত নির্মাণ কাজ ঢাকার বায়ু ও পরিবেশ দূষণের পরিমাণ আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমি ব্যবহারের তুলনামূলক চিত্র থেকে এটি প্রতিয়মান যে, ১৯৯৯ সালে জলাভূমির শতকরা হার ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, সবুজ আচ্ছাদন ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ, কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ৬৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং খোলা জায়গা ১৪ দশমিক ০৭ শতাংশ, যা গত ২০ বছরে পরিবর্তিত হয়ে ২০১৯ সালে জলাভূমির শতকরা হার ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সবুজ আচ্ছাদন ৯ দশমিক ২০ শতাংশ, কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ৮১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং খোলা জায়গা ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এ এসে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বারিধারা, বনানী, গুলশান, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার শতকরা হার ৮৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সেই তুলনায় সবুজ আচ্ছাদন মাত্র ০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বড় বাগ, কাজী পাড়া, শেওড়া পাড়া ও ইব্রাহীমপুর এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার শতকরা হার ৯৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। খিলগাঁও, গড়ান, মেরাদিয়া, বাসাবো ও রাজারবাগ এলাকায় কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকার শতকরা হার ৯৭ দশমিক ৬০ শতাংশ, সেই তুলনায় সবুজ আচ্ছাদন মাত্র ০ দশমিক ৯০ শতাংশ।