• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

বাণিজ্যমেলায় পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ ক্রেতাদের

    সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক
  • | ঢাকা , রোববার, ০৫ জানুয়ারী ২০২০

বাণিজ্যমেলায় নিম্ন মানের পণ্য নিয়ে প্রতিবছরই ক্রেতা-দর্শনার্থীদের অভিযোগ থাকে। এবার পণ্যে মান বৃদ্ধি করতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। কিন্তু এতেও তেমন কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। কারণ মেলা আসা অনেক ক্রেতা পণ্যে মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এসে যদি নিম্নমানের পণ্য কিনতে হয়, তাহলে মেলায় না এসে গুলিস্তানে গেলেই ভালো হতো। কারণ গুলিস্তান, নিউমার্কেট, চকবাজারের নিম্ন মানের পণ্য বাণিজ্য মেলায় বিক্রি হচ্ছে।

মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পক্ষ থেকে এবার বলা হয়, এবার মেলার গুণগত মান বাড়ানো হয়েছে। মেলায় নিম্নমানের পণ্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ কারণে মেলায় স্টলের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এছাড়া আগে বিদেশি প্যাভিলিয়নে নিম্নমানের দেশি পণ্য বিক্রি হতো, এবার যাতে এমনটি না হয় সে জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হওয়ায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা জৌলুস হারিয়েছে। এ জন্য এবার যাতে নিম্নমানের পণ্য মেলায় না আসে সে জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আকবর হোসেন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, মেলার মান বাড়ানোর কথা বলে এবার প্রবেশের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু মেলার সবদিকে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বিদেশি প্যাভিলিয়নে আগের মতো নিউমার্কেট, চকবাজারে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তাহলে মেলার মান বাড়ানো হলো কীভাবে? আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় আন্তর্জাতিক মানের পণ্য বিক্রি হবে। কিন্তু আমাদের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় সব সময় দেখছি নিম্নমানের পণ্যের দাপট। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। আয়োজকদের উচিত মেলায় যাতে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য আসে তার নিশ্চয়তা বিধান করা।

খায়রুল হোসেন নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, আয়োজকদের পক্ষ থেকে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তাতে ধারণা করেছিলাম মেলায় এবার নিম্নমানের পণ্য আসবে না। কিন্তু মেলায় এসে দেখি আগের মতোই নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আয়োজকদের বোঝা উচিত, ৪০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে একজন এক বা দেড়শ’ টাকার পণ্য কিনতে আসবে না।

তবে এ বিষয়ে মেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রফ বলেন, মেলায় কোন মানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে সেই বিষয়ে নজর না দিয়ে বরং আপনাদের নজর দেয়া উচিত যে পণ্য মেলায় এসেছে তার ক্রেতা আছে কি না। অর্থনীতিতে একটা কথা আছে, ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই। চাহিদা থাকলে সেই পণ্য তো বিক্রি হবেই।

আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, মেলায় এবার নিম্নমানের পণ্য প্রবেশ হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এখনও ওই জায়গায় আছি। মেলায় যাতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি না হয় সে জন্য ভোক্তা অধিদফতর আছে। মেলায় আমরা তাদের জায়গা দিয়েছি। কেউ নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় এবার বাংলাদেশের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অস্ট্রিলিয়া, ভুটান, বুনাই, দুবাই, ইতালি ও তাইওয়ানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।