• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ৫ সফর ১৪৪০

বাণিজ্য ঘাটতি সাড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলার

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন ২০১৮

আমদানির চাপে সাড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বড় বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ; এই অংক অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার ব্যালেন্স অব পেমেন্টের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পণ্য বাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এই অংক আগের ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ের প্রায় দ্বিগুণ। আর পুরো অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ঘাটতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর অর্থবছর শেষ হয়েছিল ৯৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১ কোটি ডলার। এ হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

ঘাটতি বেড়েছে সেবা বাণিজ্যেও। জুলাই-এপ্রিল সময়ে সেবা বাণিজ্যে মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৭০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩০৩ কোটি ছিল। সেবা খাতের বাণিজ্যে মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই হিসাবে ২৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। তবে বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ বাড়ায় অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে সরকারের আর্থিক হিসাবে ভালো উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে যেখানে ৩৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল, এবার তা ৬৮৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ২৩৭ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই দশ মাসে এফডিআই কমেছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এই সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ দেশে এসেছে ৩৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৮৬ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ৮.৫ বিলিয়ন ডলার : আমদানির চাপে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাব ভারসাম্যেও বড় ধরনের ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দশ মাসে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৫১ কোটি ডলারে। এই ঘাটতি গত অর্থবছরের একই সময়ের প্রায় ৫ গুণ বেশি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে লেনদেন ভারসাম্যে ১৭৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঘাটতি ছিল। জুনে অর্থবছর শেষে তা ১৪৮ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

সাধারণভাবে কোন দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোন ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।