• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ মহররম ১৪৪২, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭

বাজেটে রাজস্ব আয় ও জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির তাগিদ অর্থমন্ত্রীর

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

image

আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আয় ও জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, আমাদের রাজস্ব আয় ও জিডিপির অনুপাত একদম কম, ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ পার্সেন্টের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি ১৪ ভাগে উঠতে পারি, মাত্র চারভাগ, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরও ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য আমাদের অটোমেশনে গুরুত্বারোপ করতে হবে। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেয়া সমাপনী বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষিখাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেখান থেকে এখনও আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই কৃষিখাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক এলাকা। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্য জোগান দিতে পারব, ইনশাল্লাহ। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতি সম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে আমাদের অবস্থান করে নিয়েছি। গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ যা বিশ্বে একটি রেকর্ড। কোভিডের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতি, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সব পেশার মানুষ কাজ হারিয়েছে। পান দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র কুটির এবং ছোটবড় সব ব্যবসায়ী, সব শ্রেণীর, নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্যই এবারের বাজেট। এদেশের কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেতো, ছোট রাখা যেতো আমাদের বাজেট ঘাটতিও। সত্য যে বড় কঠিন। তাই সব জেনেশুনে আমরা কঠিনকে ভালোবেসেছি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এবারের বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ এটি আকারে অনেক বড়। কিন্তু আমরা এই বাজেটটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী।

এ প্রসঙ্গে কয়েকটি তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরের প্রত্যেকটি বাজেটে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তার চাইতে প্রকৃত অর্জন আরও অনেক বেশি ছিল। বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ যা বিশ্বের সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না (চীন) ১৭৭ শতাংশ নিয়ে। আর ভারত ছিল ১১৭ শতাংশে। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিনগুণ। বাজেট উপস্থাপনের সাত দিন পরেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরেকটি গবেষণা করে। সেখানে তারা দেখিয়েছেন, এ বছর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের প্রক্ষেপণ হলো ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমাদের কাছাকাছি তাদের প্রক্ষেপণ। সুতরাং, আমরা বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের এই বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। আমাদের এই দেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখনও আমরা আমাদের অর্থনৈতিক এলাকার যে চালিকাশক্তিগুলো আমরা এখনও সম্পূর্ণভাবে কোনটাই এক্সপান্ড করতে পারিনি। আমরা কৃষির কথা বলেছি, শিল্পের কথা বলেছি, আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতিক লভ্যাংশ) বলেছি। কিন্তু কোনটাই আমরা পূর্ণমাত্রায় অর্জন করতে পারি নাই।

তিনি আরও বলেন, বারবার একটি কথা উঠে আসে, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত একদম কম, অনেক কম ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ পার্সেন্টের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি ১৪ ভাগে উঠতে পারি, মাত্র চারভাগ, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরও এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য কী কাজ দরকার? একটিমাত্র কাজ- সেটি হচ্ছে আমাদের অটোমেশন। আমরা গতবছর (অটোমেশন) শুরু করেছিলাম, শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যতদ্রুত সম্ভব এই বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। এটা করে আমরা প্রমাণ করব, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।