• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল ‍আউয়াল ১৪৪২

বন্ধ হচ্ছে একের পর এক গার্মেন্টস চাকরি হারাচ্ছেন বহু শ্রমিক

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

image

করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে বহু পোশাক কারখানার মালিক। এতে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো পোশাক শ্রমিক। বাংলাদেশ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনা শুরুর পর বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো ব্যাপক চাপে পড়েছে। এর ফলে কমপক্ষে ১১৭টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ায় এসব কারখানার ৪৪ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। আরও অনেক শ্রমিক চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায়ও এমন তথ্য আশঙ্কা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ তৈরি পোশাক শ্রমিক চাকরি হারাতে পারেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডগুলো পণ্যের দাম কমানোর দাবি তোলায় এবং মহামারীতে টিকে থাকতে কার্যাদেশের জন্য ‘নাছোড়বান্দা সরবরাহকারীদের’ পাওনা পরিশোধে বিলম্ব করায় এমন আশঙ্কা তৈরির কথা বলেছে ওই গবেষণায়। এসব ক্রেতা পণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে ১২ শতাংশ কমাতে সরবরাহকারীদের কাছে বায়না ধরেছেন বলে পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর গ্লোবাল ওয়ার্কার্স রাইট-সিজিডব্লিউআরের গবেষণায় উঠে এসেছে। এ আচরণকে গবেষণায় ‘নাছোড়বান্দা পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে বলে টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়। ১৫টি দেশের ৭৫টি কারখানায় পরিচালিত জরিপে সরবরাহকারীরা বলেছেন, এখন তাদের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডগুলোর কাছ থেকে পাওনা হাতে পাওয়ার জন্য গড়ে ৭৭ দিন অপেক্ষা করতে হয়- যেটা মহামারীর আগে ৪৩ দিন ছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ছয় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের এই শিল্প খাতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে ব্র্যান্ডগুলোর স্টোর বন্ধ হওয়ায় এ বছরের শুরুর দিকে কোম্পানিগুলো শত শত কোটি ডলারের কার্যাদেশ বাতিল করে দেয়। এর ফলে প্রায় ৫৮০ কোটি ডলারের কর্মসংস্থান হারিয়ে গেছে বলে চাপ প্রয়োগকারী সংগঠন ক্লিন ক্লোথস ক্যাম্পেইনের দাবি। ক্যাম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া, গুয়াতেমালা, ভারত, মেক্সিকো, পেরু, ভিয়েতনামসহ দেশগুলোর সরবরাহকারীরা সিজিডব্লিউআরকে বলেছেন, এর মধ্যেই তাদের ১০ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই করতে হয়েছে এবং কার্যাদেশ এভাবে কমতে থাকলে তাদের শ্রম শক্তির আরও ৩৫ শতাংশ ছেঁটে ফেলতে হবে। সিজিডব্লিউআর বলছে, বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন শিল্প খাতের এটাই যদি প্রকৃত চিত্র হয় তাহলে লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক চাকরি হারাবে।

এ প্রসঙ্গে পোশাক প্রস্তুতকারক ও শ্রম অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এর আগে যেসব কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছিল বা স্থগিত করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছুর সঙ্গে নতুন কিছু কার্যাদেশ আবার দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম। জরিপের সরবরাহকারীদের অর্ধেক বলেছেন, এভাবে ‘সোর্সিং’ সঙ্কুচিত হয়ে গেলে তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। জরিপে যে ৭৫ জন সরবরাহকারী যুক্ত, তাদের অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশের। টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পাঁচ তৈরি পোশাক শিল্প মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন, যারা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ দাম কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর একজন পরিচালক গণমাধম্যকে বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যাদেশ বাড়লেও দাম কমে গেছে। এখন ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে দর কষাকষির তেমন একটা সুযোগ নেই। তারা বলে যে, আমরা যদি এই দামে না পারি তাহলে তারা অন্য সরবরাহকারী দেখবে। কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় তরঙ্গের আঘাতে বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত না হলে তৈরি পোশাক শিল্প খাত এত দিনে পুনরুদ্ধার হয়ে যেত বলে তিনি মনে করেন। জেনেভাভিত্তিক চাকরিদাতাদের আন্তর্জাতিক সংগঠন (আইওই) বলছে, মারাত্মক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ব্র্যান্ড ও সরবরাহকারীরা সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে।

এছাড়া জানা গেছে, করোনার মধ্যে প্রায় সব দেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ভারত ও মেক্সিকোর কমেছে এক-তৃতীয়াংশ। ইন্দোনেশিয়ার কমেছে ২১ শতাংশের কাছাকাছি। সেই হিসাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাস জানুয়ারি-আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে শুধু ভিয়েতনাম, দেশটির রপ্তানি কমেছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত মার্চ থেকে পোশাক আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। তাতে সব দেশেরই ব্যবসা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে বাজারটিতে বিভিন্ন দেশের ৪ হাজার ৩৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ২৯ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছর ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল।