• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

ফুলের বাণিজ্য উন্নয়নে আলাদা প্রকল্প

সংবাদ :
  • রোকন মাহমুদ

| ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ এপ্রিল ২০১৯

image

  • ব্যয় হবে ৫০ কোটি টাকা
  • রাজধানীতে হবে পাইকারি বাজার

ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ফুল বাণিজ্যের উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য আলাদা একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে একটি স্থায়ী পাইকারি বাজার তৈরি, বিভিন্ন জেলায় এ খাতের উন্নয়নে অবকাঠামো তৈরি, প্রশিক্ষণ প্রদান ও ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প এরই মধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। একনেক সভায় পাশ হলেই এর অধীনে কাজ শুরু হবে বলে সূত্র জানায়। কৃষি বিপণন অধিদফতর (ডিএএম) ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে বছরজুড়ে ফুলের চাহিদা বাড়ছে। পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফালগুনের বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস কিংবা একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে ফুলের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। চাহিদা মেটাতে দেশে এখন ফুল আমদানিও করতে হচ্ছে। একইসঙ্গে অবশ্য দেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে। তবে বাজার অবকাঠামো, সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধার অভাবে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া স্থায়ী কোন বাজার না থাকায় এসব ফুল বিপণনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার উন্নয়নে শক্তিশালী বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। অনুমোদিত প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেক সভায় অবহিত করতে উপস্থাপনের তালিকায় রয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে ফুল শিল্প একটি বিশ্বজনীন এবং গতিশীল শিল্প, যা গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য হারে বিকশিত হয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছার পানিছড়া গ্রামে ১৯৮৩ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ফুলচাষ শুরু হয়। পরে আরও পাঁচ উপজেলায় ফুল চাষ খুবই দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। এখন যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, গাজীপুর, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহীসহ ২২ জেলায় ফুল চাষ হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ কৃষক ও উদ্যোক্তা ফুলচাষ এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা এবং ঢাকা ও মানিকগঞ্জে রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফুল চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালেন্ডুলা, জিপশি ও এনকাগাঁদা উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রকল্পটিতে ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার গাবতলীতে একটি ফুলের পাইকারি বাজার ও ফুল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি খুলনা বিভাগের যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহেও পরিবহন অবকাঠামোসহ ফুল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে ঢাকা, মানিকগঞ্জ এবং খুলনা বিভাগের ছয় জেলার ফুল উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ৫৪০ কৃষক, উদ্যোক্তা, বাজারজাতকারীকে। এছাড়া কৃষি অধিদফতরের ৫০ কর্মকর্তাকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিপণন কার্যক্রম শক্তিশালী করতে গঠন করা হবে ১০০ বিপণন দল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপণন সেবা সম্প্রসারণ এবং খামারের সঙ্গে সরাসরি বাজার সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ফুল বিপণন-সংক্রান্ত সহায়ক কার্যক্রম বাড়বে। এতে খাতটির সঙ্গে জড়িত কৃষক, ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। এছাড়া বেকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পও গড়ে ওঠবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিপণন অধিফতরের কর্মকর্তারা।