• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন উদ্বোধন

ফুল রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবকাঠামো ও নীতিমালা উন্নয়ন আবশ্যক

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮

ফুল রপ্তানি বৃদ্ধিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সহায়ক নীতিমালা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। গতকাল ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সহায়তায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স ২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রউফ।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ হলো ‘ল্যান্ড অফ ফ্লওয়ার’ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির ফলে সমাজের নানা স্তরে ফুলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় আমাদের দেশে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ কৃষি ভিত্তিক দুটি পণ্য পাট ও চা-এর উপর ভিত্তি করে আমাদের রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

ফুল উৎপাদন খাতের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা প্রদানের ফলে বর্তমানে সারাবিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে আমরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছি। ফুল চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগোনোর জন্যও এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা প্রদান প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল বিদেশে রপ্তানির জন্য প্যাকেজিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, হিমাগার স্থাপন, ফুলের নতুন নতুন জাত উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপের জন্য এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরও বলেন, ফুল খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং গবেষণা পরিচালনার জন্য সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার গ্রোওয়ার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়শন’ নামে একটি সংগঠন স্থাপিত হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন, যারা ফুল খাতে নীতিসহায়তা প্রাপ্তিতে সরকার ও স্টেকহোল্ডাদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৪.৩২% এবং মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০.৬% কৃষিখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষিভিত্তিক একটি পণ্য হিসেবে ফুলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি)’র তথ্যমতে, সারাবিশ্বে ফুলের বাজার প্রতিবছর ১০% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সার্বিকভাবে ফুলের বাজার মূল্য প্রায় ১২শ কোটি টাকা। তিনি এ সম্ভাবনাময় শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এর সঙ্গে জড়িত কৃষক ও উদ্যোক্তাদের স্বল্প হারে ঋণ সুবিধা প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি প্রাপ্তি ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদানে, উন্নত ও নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ করা, ওয়্যারহাউজ ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং সর্বোপরি অবকাঠামো উন্নয়ন একান্ত অবশ্যক বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, প্রয়োজনীয় হিমাগারের অভাবের কারণে আমাদের দেশে কৃষি খাতে উৎপাদিত নানাবিধ পণ্যের যোগ্য মূল্য থেকে উদ্যোক্তা ও কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ফুল খাতের বিকাশে হিমাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে ‘ওয়্যারহাউজ নির্মাণ’ একান্ত আবশ্যক বলে অভিমত প্রকাশ করেন এবং ‘ওয়্যারহাউজ নির্মাণ’ কে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আবদুর রউফ বলেন, ফুল একটি উচ্চ মূল্যমান কৃষি পণ্য এবং বাংলাদেশে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্প্রসারণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ২০ জেলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে এবং ফুল খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি যৌথভাবে কাজ করার উপর জোরারোপ করেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, বাংলাদেশ ফুল খাতের বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কৃষি মন্ত্রণালয় ফুলের জন্য স্থায়ী পাইকারি বাজার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যেটির বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি ফুলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ‘ফুল গবেষণা কেন্দ’ স্থাপনের প্রস্তাব করেন।

ইউএসএইড’র ডিরেক্টর থমাস পোপ বলেন, বাংলাদেশের কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ইতোমধ্যে ইউএসএইড’র পক্ষ হতে প্রায় ৩ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং বাংলাদেশে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ ও এ খাতের ভ্যালু চেইনের উন্নয়নে ইউএসএইড সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

ইউএসএইড’র কনসালটেন্ট এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ১৯৮৩ সালে যশোরের ঝিকরগাছায় বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ শুরু হলেও বাংলাদেশে উপযোগী জমির প্রাপ্ততা এবং সহায়ক জলবায়ুর কারণে আমাদের ফুলের বাজার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকায় এসে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, কৃষি খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে সরকারকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং তা হলেই দেশের বেসরকারিখাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। ফুল শিল্পের বিকাশে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা পরিচালনা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর তিনি জোরারোপ করেন।

প্রসঙ্গত, ৬-৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ তারিখে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত “ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাওয়ার এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্স ২০১৮”-এ প্রায় ৭০টি স্টলে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাবৃন্দ তাদের ফুল ও ফুল সংশ্লিষ্ট পণ্য প্রদর্শন করছে; যেখানে থাইল্যান্ড, ভারত এবং নেপালের ১২টি স্টল অংশ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ মেলা রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিসিসিআই সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক ইঞ্চি. আকবর হাকিম, আন্দালিব হাসান, হোসেন এ সিকদার, ইমরান আহমেদ, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, প্রাক্তন সভাপতি মাহবুবুর রহমান, প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আলহাজ আবদুস সালাম, প্রাক্তন সহ-সভাপতি আবসার করিম চৌধুরী, এম আবু হোরায়রাহ, প্রাক্তন পরিচালক রিজওয়ান-উর রহমান এবং একেডি খায়ের মোহাম্মদ খান, মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।