• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫, ৭ রবিউল সানি ১৪৪০

পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ

লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি ১২ শতাংশ

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

image

দেশের রপ্তানি বাণিজ্য খুব ভালো সময় পার করছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় তার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এ সময় রপ্তানি আয় হয়েছে, এক হাজার ৭০৭ কোটি ৩৭ লাখ ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। গতকাল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা যায়।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রপ্তানি আয় ভালো ছিল। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যাচ্ছে। ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৫২৩ কোটি ডলার। তবে এ সময়ে আয় হয়েছে এক হাজার ৭০৭ কোটি মার্কিন ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছিল এক হাজার ৪৫৬ কোটি মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, একক মাস হিসেবে নভেম্বরে ৩৪২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের নভেম্বরে রপ্তানি হয়েছিল ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য। চলতি অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। আলোচিত সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৪১৮ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর গত পাঁচ বছরে দেশের পোশাক খাতের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর আস্থাশীল। এর কারণে এ খাতে রপ্তানি আয় বাড়ছে। তবে এটি আশানুরূপ নয়। কারণ আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। বৈশ্বিক ক্রেতারা ন্যায্য মূল্য দিলে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হতো। একই অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি। প্লাস্টিক পণ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে চার কোটি ৮৭ লাখ ডলার যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। তবে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আয় ২২ শতাংশ কমেছে।

এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার। একইভাবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের রপ্তানি আয়ও কমেছে। এ খাতে আয় হয়েছে ৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার আয় হয়। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক থেকে।