• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭ ২৩ রজব ১৪৪২

পর পর পাঁচ দিন পতন শেয়ারবাজারে

ডিএসই’র সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে, লেনদেন ৫৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকা

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১

গত সোমবারেরর মতো গতকালও বড় পতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। গতকালকের পতন নিয়ে পর পর পাঁচ দিন পতনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজার। এই পাঁচ দিনে বৃহৎ শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সূচক ২২৭ পয়েন্ট হারিয়েছে। আর বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত পাঁচ দিন ডিএসইর বাজার মূলধন ১৭ হাজার ৮৩৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা কমেছে। এরমধ্যে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৩ হাজার ৮৭ কোটি ৯৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ৩ হাজার ৫৬ কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার টাকার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ৩ হাজার ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৫২ হাজার টাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ৫ হাজার ৫৭৭ কোটি ৯০ লাখ ১৯ হাজার টাকা এবং গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ৩ হাজার ৭৬ কোটি ২২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা বাজার মূলধন কমেছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৭.৪৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩১৭.৭১ পয়েন্টে। ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৫.৩১ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯.৮৩ পয়েন্ট এবং সিডিএসইটি ১৮.৮৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১২০৬.৭১ পয়েন্টে, ২০১৭.৫৩ পয়েন্টে এবং ১১২৬.২৫ পয়েন্টে।

গতকাল ডিএসই ৫৯১ কোটি ৮১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে যা আগের দিন থেকে ১২৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৬৭ কোটি ৮ লাখ টাকার। ডিএসইতে গতকাল ৩৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৬৬টির বা ১৯.৪৭ শতাংশের, শেয়ার দর কমেছে ১৫৬টির বা ৪৬.০২ শতাংশের এবং ১১৭টির বা ৩৪.৫১ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮১.৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩৮৩.৫৭ পয়েন্টে। সিএসইতে গতকাল ১৯৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৯টির আর ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

গতকাল ডিএসই’র ব্লক মার্কেটে ১৪টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব কোম্পানির সাড়ে ৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৭১টি শেয়ার ১৪ বার হাত বদল হয়েছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর ৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে গ্রামীণফোনের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার ব্র্যাক ব্যাংকের এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯ লাখ ৭২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে রেনেটার।

এছাড়া আমান ফিডের ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার, জিবিবি পাওয়ারের ৭ লাখ ৯২ হাজার টাকার, কোহিনুর কেমিক্যালের ৫ লাখ ১ হাজার টাকার, খুলনা পাওয়ারের ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকার, খুলনা প্রিন্টিংয়ের ১৫ লাখ ২১ হাজার টাকার, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার, মুন্নু এগ্রোর ৫ লাখ ১ হাজার টাকার, ন্যাশনাল টিউবসের ৫ লাখ টাকার, ওরিয়ন ইনফিউশনের ৫ লাখ টাকার, স্কয়ার ফার্মার ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং স্টাইল ক্রাফটের ১০ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

গতকাল ডিএসই’র লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৬টির বা ১৯.৪৭ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। এদিন শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে জিবিবি পাওয়ারের। গত সোমবার জিবিবি পাওয়ারের শেয়ারের ক্লোজিং দর ছিল ২৩.৫০ টাকায়। গতকাল লেনদেন শেষে এর শেয়ারের ক্লোজিং দর দাঁড়ায় ২৪.৮০ টাকায়। অর্থাৎ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার দর ১.৩০ টাকা বা ৫.৫৩ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে জিবিবি পাওয়ার ডিএসইর টপটেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।

ডিএসইতে টপটেন গেইনার তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আমান কটনের ৫.১০ শতাংশ, মিরাকলের ৩.৮৭ শতাংশ, রবি আজিয়াটার ৩.৮০ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিমের ৩.৭৩ শতাংশ, ইসলামিক ফাইন্যান্সের ২.৯২ শতাংশ, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ২.৬১ শতাংশ, রেকিট বেনকিজারের ২.৩৮ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের ১.৮৫ শতাংশ এবং রানার অটোমোবাইলসের শেয়ার দর ১.৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

গতকাল টপটেন লুজার বা দরপতনের শীর্ষে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান। গতকাল ফান্ডটির দর ৯০ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমেছে। এদিন ফান্ডটি সর্বশেষ ৮ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এদিন ফান্ডটি ৪৭ বারে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭১৮টি শেয়ার লেনদেন করেছে। যার বাজার মূল্য ১৪ লাখ টাকা। লুজার তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। গতকাল কোম্পানিটির দর ৬ টাকা ৯০ পয়সা বা ৭.৮২ শতাংশ কমেছে। শেয়ারটি সর্বশেষ ৮১ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স লুজার তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির দর ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৭.২৮ শতাংশ কমেছে। লুজার তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- শাইনপুকুর সিরামিকস, জেএমআই সিরিঞ্জ, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, জিলবাংলা সুগার মিলস, ন্যাশনাল হাউজিং, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ১৮৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন কোম্পানিটি মোট ২ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার শেয়ার হাতবদল করেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড।

কোম্পানিটির ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে যার বাজার মূল্য ৩৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। বেক্সিমকো ফার্মা তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির ১৯ লাখ ১৩ হাজার ২২২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে যার আর্থিক মূল্য ৩৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। লেনদেনের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে লংকাবাংলা ফিন্যান্স, রবি, স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন হাইটেক, সামিট পাওয়ার, গ্রামীণফোন ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড।