• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউল সানি ১৪৪০

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ চান শিল্প উদ্যোক্তারা

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

দেশে কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবি করেছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, দেশের অগ্রযাত্রার সিংহভাগ অবদান বেসরকারি খাতের। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উদ্যোক্তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দেশের অবকাঠামো সমস্যা। তাই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বন্দর সুবিধা বৃদ্ধির তাগিদ দেন তারা।

গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ প্রদান অনুষ্ঠানে তারা এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে স্ব স্ব শিল্প-কারখানায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উৎপাদিত পণ্যের উৎকর্ষতা সাধনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ ক্যাটাগরিতে মোট ১২টি শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান, এনপিওর পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামান, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল হক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে শিল্প কারখানায় সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্পায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে শিল্প সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি ও উদ্যোগের ফলে দেশে শিল্পায়নের ধারা জোরদার হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় আয়ের শিল্প খাতের অবদান ৩৩ শতাংশ এবং সেবা খাতের অবদান ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শিল্প সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ব্যাংক, বীমা, শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা পশ্চিম পাকিস্তানি ও বিহারিদের হাতে ছিল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় আজ বাংলাদেশে বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। আমাদের শিল্প কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনের গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প উদ্যোক্তাদের চাহিদামাফিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে শিল্প, সেবা, কৃষিসহ সকল খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি ব্যবহার করে শিল্প কারখানায় সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

২০১৬ সালের জন্য ৫ ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে; বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস্ লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড ও আরএফএল প্লাস্টিকস্ লিমিটেড। মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে বঙ্গ প্লাস্টিক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, প্রাণ ফুডস্ লিমিটেড ও গ্রাফিকপিপল। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেড ও সিন্থেটিক এডেসিভ কোং লিমিটেড। মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে একাডেমিক বুক হাউস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ক্যাটাগরিতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ইস্টার্ন কেবলস্ লিমিটেড ও গাজী ওয়্যারস্ লিমিটেড।

উল্লেখ্য, শিল্প-কারখানায় উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ পুরস্কার প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেয়া হচ্ছে। স্ব স্ব শিল্প-কারখানায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোসহ বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার চতুর্থবারের মতো এ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)।