• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ মহররম ১৪৪২, ১০ আশ্বিন ১৪২৭

নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ মে ২০২০

image

বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ নিত্যপণ্য মজুত রয়েছে তাতে করে আগামী চার মাসেও কোন ধরনের সংকট হবে না বলে জানিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথেষ্ট স্টক আছে। আমরা আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুত করেছিলাম। ফলে প্রচুর স্টক রয়ে গেছে। ফলে আরও চার মাসেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের কোন সমস্যা হবে না। টিসিবিও পণ্য বিক্রিতে প্রস্তুত আছে। বিশেষ করে ছোলার প্রচুর মজুত রয়েছে। যদিও আগামী রোজা পর্যন্ত এটি রাখা যাবে না, তারপরেও হয়ত অনেক পরিমাণ থেকে যাবে। অনেক আগে থেকেই টিসিবি নিজেরা এবং ডিলারের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেটি পর্যবেক্ষণ করছে, যাতে কোন অনিনিয়ম না হয়। ঢাকায়ও মন্ত্রণালয়ের ১০টি টিম আছে এটি পর্যবেক্ষণে। আর টিসিবি আগের চেয়ে ১০ গুণ পণ্য স্টক রেখেছিল। সে কারণে আমরা কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকতে পারছি। আদার ক্ষেত্রে বাজারে কিছু সমস্যা ছিল। কিন্তু চাপ সৃষ্টি করে তা সমাধান করেছে ভোক্তা অধিকার। তারা রমজানের প্রথম সপ্তাহে থেকেই বাজার তদারকি করছে। তারা জনগণের মাঝেও মাস্কও বিতরণ করেছে। ৫০ হাজার মাস্ক দিয়েছিলাম, তারা মানুষকে তা দিয়েছে। টিসিবি, ভোক্তা অধিকার ও মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

চার রুট দিয়ে ভারতীয় পণ্য আমদানি : এছাড়াও অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান রেলের চারটি রুটকে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খাদ্যপণ্য যেমন- তেল, পিয়াজ, আদা, রসুন, ডাল যেগুলো আমদানি করতে হয় সেগুলো যেন বন্দর থেকে দ্রুত খালাস করা যায় সে ব্যবস্থা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর, বিমানবন্দরসহ স্থলবন্দরে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। ভারত থেকে পণ্য আনতে কয়েকদিন আগে আমরা বেনাপোল স্থলবন্দর খুলতে পেরেছিলাম, কিন্তু তিন দিন চলার পর সমস্যার কারণে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে অন্য স্থলবন্দর যেটা আসাম, ত্রিপুরা দিয়ে কানেক্টেড (যুক্ত) সে পথ দিয়ে কিন্তু ভারত থেকে পণ্য আমদানি হচ্ছে। গত তিন দিন আগে আমাদের সচিব ভারতের তিনটি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে রেলওয়েতে কীভাবে পণ্য আনা যায় সে বিষয়ে কথা বলেছেন। আশা করছি আগামী রোববার এ ব্যাপারে একটা ফাইনাল মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যাতে চারটা রুটে ভারত থেকে রেলপথে কার্গো আনা যায়। এ রকম একটা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে হিলি, বিরল, দর্শনা ও বেনাপোল রুটকে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ সময় অত্যন্ত জরুরি হচ্ছে পাট বীজ। পাট বীজ ভারত থেকেই আসে। সেটা বন্ধ হয়ে আছে। তিন দিন খোলা থাকায় বেনাপোল দিয়ে ৩০০ টনের মতো পাট বীজ আনতে পেরেছি। রেল চালু হলে আরও পাট বীজ আনা সম্ভাব হবে। এছাড়া অন্য কাঁচামাল আনা সম্ভব হবে। করোনা পরিস্থিতে বিভিন্ন দেশ ক্রয় আদেশ যাতে বাতিল না করে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের চিঠি দেয়া হচ্ছে, যাতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পোশাক কারখানায় যারা কাজে যোগ দিতে পারেনি তাদের ৬০-৬৫ শতাংশ বেতন দেয়া হবে। যারা কাজ করেছেন তারা সম্পূর্ণ বেতন পাবেন।

মালিক সমিতির অনুরোধেই মার্কেট খোলার অনুমতি : মার্কেট খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, দোকান মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রক্ষিতেই সীমিত পরিসরে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে কেউ চাইলে না-ও খুলতে পারেন। দোকান মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রক্ষিতেই ঈদকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেলে ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে বড় দুটি শপিংমল (বসুন্ধরা ও যমুনা ফিউচার পার্ক) সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা মল খুলবে না। এটা তাদেন নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কেউ যদি মনে করে দোকান খোলা ঠিক হবে না, তারা খুলবে না। তবে যারা খুলবে তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

মার্কেট খোলার অনুমতি দেয়া হলেও গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। তাহলে ক্রেতা মার্কেটে আসবে কীভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে যিনি যে এলাকার বাসিন্দা তিনি সে এলাকার মার্কেটে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনবেন। এজন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।