• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব সানি ১৪৪১

নারীদের বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : শিল্পমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

image

গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত ২০১৭’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনসহ অন্যরা

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই নারীদের বাদ দিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী উন্নয়নে সরকারের গৃহীত যুগোপযোগী নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ব্যবসায়ে শিক্ষিত নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের ব্যবসা বান্ধব নীতির কারণে ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীরা শিল্পায়ন ও ব্যবসায় অধিকহারে সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

এসএমই ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত ২০১৭’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এসব কথা বলেন। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল এ গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই নারীদের বাদ দিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ বিবেচনায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যকর গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান করছে। একজন নারী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথে সামাজিক ও পারিবারিক সমর্থনও আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে। ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণে নারী উদ্যোক্তারা বিশেষ সহায়তা পাচ্ছেন এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে তারা অনেক এগিয়ে গেছে। নারীদের নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের বড় ধরনের গবেষণা চালালে শিল্প মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জাতি গঠনে বাংলাদেশের নারীদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। দেশের নারী জনগোষ্ঠী তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন সেক্টরে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন পেশায় যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে করে আগামী দশ বছর পর নারীদের আলাদা করে দেখার কোন প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশীয় বাজারের বিপুল চাহিদা মেটাতে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কেএম হাবিব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান, এসএমএই ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও নারী উদ্যোক্তা ইসমত জেরিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ডিভিশনের কর্মকর্তা লীলা রশিদ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা মাসুমা বেগম, পাট পণ্য রপ্তানিকারক কোহিনুর ইয়াসমিন, সাংবাদিক সালাম জুবায়ের, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলশান নাসরিন চৌধুরী, রূপান্তরিত নারী (তৃতীয় লিঙ্গ) আফরোজা বেগম মৌরি মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন বলেন, ‘নারীরা যেন সহজে এসএমই ঋণ পায় সেজন্য আমরা কাজ করছি। আর আমাদের কাছে ৮০ কোটি টাকা রয়েছে। এই টাকা দিয়ে সবাইকে ঋণ দিতে পারছি না। সরকার যদি আমাদের ফান্ডটা একটু বাড়িয়ে দেন তাহলে আরও বেশি উদ্যোক্তাকে ঋণ দিতে পারবো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রগতি চলমান রাখা জরুরি।’

গবেষণাটি সারাদেশের ১ হাজার ৫১০ জন নারী উদ্যোক্তার ওপর পরিচালনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষিত নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। সামাজিকভাবে পিছিয়ে যাওয়া নারীরা ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে শিল্পায়ন ও ব্যবসায় সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারেও নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে গেছেন। ২০০৯ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে শিক্ষিত ২০ শতাংশ নারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ২০০৯ সালে ৪২ শতাংশ নারীকে পারিবারিকভাবে ব্যবসায় সম্পৃক্ত হতে নিরুৎসাহিত করা হতো। ২০১৭ সালে তা ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ২৮ শতাংশ নারীকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করতে হয়েছে। ২০১৭ সালে এটি ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ট্যাক্স দিতেন যা ২০১৭ সালে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা ব্যবসার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতেন যা ২০১৭ সালের বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এসবই বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে গবেষণার ফলাফলে পাওয়া গেছে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক অগ্রগতি অব্যাহত রেখে নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হবার পেছনে অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি রূপান্তরিত নারীদের (তৃতীয় লিঙ্গ) জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়িয়ে তাদের সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে তারা নারীদের ওপর বড় ধরনের গবেষণা চালিয়ে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পেছনে প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং এর প্রতিকারে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের তাগিদ দেন।