• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মহররম ১৪৪০

দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নীতিমালা করার ঘোষণা এনবিআরের

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

image

আগামী বাজেটে দেশীয় শিল্পে করপোরেট কর কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি আগামী বাজেট (২০১৮-১৯) প্রণয়নে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান বলেন, যারা দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নীতিমালা

করার ঘোষণা এনবিআরেরবদেশ থেকে নিম্নমানের পণ্য এনে বাজার সয়লাব করে- তা বন্ধ করা দরকার। তবে পুরোপুরি আমদানি বন্ধ করা যাবে না। আমরা দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে চাই। এ সময় রাজস্ব ঘাটতির বিষয়ে সিপিডির দেয়া বক্তব্যের জবাব দেন তিনি। চলতি অর্থ বছর শেষে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব বিষয় জানান। এদিন সকালে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যালস, কম্পিউটার, আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ?্য করতে ভ্যাট আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে সব পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর এ দাবি উপস্থাপন করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে এনবিআর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এটা অত্যন্ত খুশির খবর যে, অনেকেই শিল্প স্থাপনের দিকে আসতে চাইছেন। আমরাও চাই দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটুক। সেক্ষেত্রে রাজস্ব ছাড় দিয়ে হলেও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু তাই নয় আমরা চাই দেশীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিতে যেন যেতে পারে। কারণ দেশে যে বেকার সমস্যা আছে তার সমাধান দরকার।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশে জিডিপির আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় রাজস্ব আয় কমলে হবে না। প্রতি বছর আমাদের রাজস্ব আয় ১২ থেকে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার আশা করছি আরও বেশি বৃদ্ধি পাবে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা একটু কমানো হতে পারে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, অনেকে বলছেন কর করপোরেট কমালে রাজস্ব কমে যাবে তবে আমরা এ বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের বিকাশে আমরা করপোরেট কর কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে বলে সিপিডির এমন বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এতটা হয়তো ঘাটতি হবে না। এখনও তিন মাস সময় আছে। সাধারণত রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা গেছে শেষ সময় আদায় বেশি হয়। সে হিসেবে এ সময় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে।

গতকাল বেসিসের পক্ষ থেকে আইটি খাতে ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, ডিজিটাল স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট বাজেটের ৫ শতাংশ প্রযুক্তি খাতে খরচের বাধ?্যবাধকতা রাখা, উৎসে ভ?্যাট প্রত?্যাহারসহ বেশ কিছু প্রস্তাব পেশ করে সংগঠনটি।

প্রস্তাবনাগুলো হলো-

২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা : বেসিস জানায়, সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত থেকে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফটওয়্যার ও আইটি সেবা খাতের কোম্পানিগুলোকে রপ্তানিতে নগদ অর্থ প্রণোদনা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই এই খাতে ২০ শতাংশ নগদ অর্থ প্রণোদনা রাখা প্রয়োজন বলে বেসিস মনে করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট বাজেটের ৫ শতাংশ আইটি খাত অন্তর্ভুক্তকরণ : ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষে?্য আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক মোট বাজেটের ন্যূনতম ৫ শতাংশ অর্থ সফটওয়?্যার ও আইটিএস খাতে খরচ করার বাধ?্যবাধকতার বিধান অন্তর্ভুক্তিকরণ। এতে করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত হবে এবং অনেক বড় দেশীয় বাজারের সৃষ্টি হবে।

সেবার ওপর উৎসে মূসক প্রত?্যাহার : স্থানীয় সফটওয়?্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে অপর স্থানীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সফটওয়্যার এবং তথ?্যপ্রযুক্তি সেবার ওপর আরোপিত উৎসে মূসক সম্পূর্ণরপে প্রত?্যাহার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটি বলছে, গত ১ জুলাই ভ্যাট সম্পর্কিত ঘোষিত সাধারণ আদেশে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার ওপর ৪.৫ শতাংশ হারে উৎসে মূসক কর্তন আরোপিত হয়। যা তথ?্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশে অন্তরায়। তাই ওই ভ?্যাট সম্পূর্ণরূপে প্রত?্যাহারের দাবি জানানো হয়।

ট?্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট : এনবিআর থেকে ট?্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট প্রদান প্রক্রিয়া অত?্যন্ত সময়ক্ষেপণকারী হিসেবে আবেদনকারী সফটওয়?্যার ও তথ?্যপ্রযুক্তি পরিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় অভিযোগ করে থাকে। অনেক সময় মাসের পর মাস আপেক্ষা করেও সার্টিফিকেট পাওয়া যায় না। এজন?্য আয়কর আইনের অধীন ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আয়করমুক্ত প্রাপ্ত সফটওয়?্যার ও তথ?্যপ্রযুক্তি পরিসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি বছর ট?্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট না নিয়ে ওই সময়ের মধে?্য একবারই সার্টিফিকেট নিতে আবেদন করবে। যা এক মাসের মধে?্য আবেদনকারীকে হস্তান্তর করতে হবে বলে বেসিসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে।

এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়?্যার বা আইটি এনাবেল্ড সার্ফিসেসের আয়ের ?ওপর কর্তনকৃত অগ্রিম আয়কর ফেরত, ইন্টারনেট ইন্টারফেস কার্ড, রাউটার, সার্ভার, ব্যাটারিসহ সব ইন্টারনেট ইকুইপমেন্টের ওপর বর্তমান আরোপিত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহারসহ আরও কিছু দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।