• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪১

দুর্বল হচ্ছে চীনের অর্থনীতি

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , শনিবার, ১৬ মার্চ ২০১৯

  • শিল্পোৎপাদন প্রবৃদ্ধি কমেছে
  • বেকারত্বের হার বেড়েছে

ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে চীনের অর্থনীতি। সম্প্রতি দেশটির শিল্পোৎপাদন কমে ১৭ বছরের সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দেশটিতে বেকারত্বের হারও বেড়েছে। গতকাল সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ পরিসংখ্যান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটির ভবিষ্যতে আরও দুর্বল হওয়ার আভাস দিচ্ছে। ফলে অর্থনীতিকে সহায়তায় বেইজিং আরও পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু পরিসংখ্যানে চীনা অর্থনীতির মন্থরগতি স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এএফপি।ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এসবিএস) পরিসংখ্যান এমন একটি সময় প্রকাশিত হলো, যখন তিক্ত বাণিজ্য লড়াই অবসানে ওয়াশিংটন ও বেইজিং একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং চীনা নেতারা বেইজিংয়ে একটি বার্ষিক পার্লামেন্টারি সম্মেলনে সমবেত হয়েছেন। এনবিএসের পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনের কারখানা ও ওয়ার্কশপগুলোর উৎপাদন প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা প্রত্যাশিত ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচে এবং ২০০২ সালের পর সর্বনিম্ন। ডিসেম্বরে চীনের কারখানা উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে এনবিএসের মুখপাত্র মাও শেংইয়ং বলেন, বাহ্যিক পরিবেশের অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা নিয়ে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। অর্থনীতি নিম্নমুখী চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

গত মাসে চীনে বেকারত্বের হার বেড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, ডিসেম্বরে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। অবশ্য এর চেয়ে খারাপ বেকারত্ব হারের আশঙ্কা করেছিল এনবিএস। গত সপ্তাহে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং চলতি বছরের জন্য প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়ে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছেন। গত বছর চীনের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা প্রায় তিন দশকের মধ্যে মন্থরতম। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতির জন্য সহায়তা পদক্ষেপ জোরদার করছে চীন। কিন্তু প্রণোদনা কর্মসূচিগুলোর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে সময় লাগবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলতি বছরের মাঝামাঝির আগে স্থিতিশীল না-ও হতে পারে বলে মনে করেছেন অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তারা অতীতের মতো বিশাল প্রণোদনা কর্মসূচি পুনরায় গ্রহণ না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও গত সপ্তাহেই চীনা প্রধানমন্ত্রী কর কর্তন এবং শত শত অবকাঠামো ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। এর সুবাদে চীনা অর্থনীতি কোটি ডলারের দ্রুত পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে এবং বিশ্বব্যাপী দেশটির অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক নোটে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স জানায়, বছরের শুরুতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটির তীব্র মন্দা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সর্বশেষ পরিসংখ্যান তা আংশিক প্রশমিত হয়েছে। তবে নিকটমেয়াদি পূর্বাভাস এখনো নিম্নমুখী রয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সসহ অন্য কয়েকটি সংস্থা জানায়, চীন সরকার গত বছর ফাস্ট ট্র্যাকের সড়ক ও রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও অবকাঠামো বিনিয়োগে প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নতি দেখা যায়নি। অন্যদিকে গতকাল প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে চীনের কয়েকটি খাতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, আবাসন বিনিয়োগ ঊর্ধ্বগতি লাভ করেছে।

দেশটির খুচরা বিক্রি খাত মন্থর হলেও স্থিতিশীল থাকতে দেখা গেছে। এসব পরিসংখ্যান থেকে অর্থনীতিটি তীব্র মন্দার মধ্যে নেই বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছরের শুরুতে চান্দ্রবর্ষের দীর্ঘ ছুটির ফলে সৃষ্ট বিচ্যুতি সমন্বয়ের জন্য জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের উপাত্ত সমন্বিতভাবে প্রকাশ করে চীন।