• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ রজব সানি ১৪৪১

থামছে না শেয়ারবাজারের পতন নিঃস্ব হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

image

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিয়ত নিস্ব হওয়ার আতংক বাড়ছে। কোন আশ্বাসেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না। এ দুরবস্থা কাটাতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার। দেয়া হচ্ছে শেয়ারবাজারের জন্য একের পর এক সুবিধা। কিন্তু পতন ঠেকাতে নেয়া সব পদক্ষেপই ব্যর্থ হচ্ছে। অব্যাহত দরপতনের কবলে পড়ে আবারও গত তিন বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক। ধারাবাহিক এ দরপতনের যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছে না শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে আর্থিক খাতের অনিয়ম, তারল্য ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটের কারণে শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা।

এদিকে শেয়ারবাজারের তারল্য সংকট কাটাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর)। রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের সুযোগও দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি ব্যাংক এ সুবিধাও গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। বন্ড বিক্রি করে সোনালী ব্যাংক থেকে পাওয়া ২০০ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আরও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারি পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কাছে দুই হাজার কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি। এ টাকার পুরোটা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া ইউনিট ফান্ডের মাধ্যমে আইসিবিকে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ দিতে চাচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এদিকে শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও শেয়ারবাজার তলানীতেই রয়ে গেছে। অব্যাহত পতনের কবলে পড়ে গত ১৩ অক্টোবর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তিন বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ অবস্থানে রয়েছে। এরপর আইসিবির বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে ১৫ অক্টোবর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়। এতে পুঁজি হারা বিনয়োগকারীরা আশার আলো খুঁজতে থাকেন। কিন্তু পরের কার্যদিবসেই বড় উত্থানের পর দেখতে হয় বড় দরপতন। সেই পতনের ধারা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল অব্যাহত রয়েছে। ফলে শেষ ৯ কার্যদিবসের মধ্যে ৮ কার্যদিবসেই পতনের মধ্যে ছিল।

একাধিক বিনিয়োগকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা উচিৎ। দীর্ঘদিন তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন, কিন্তু শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য তার কোন অবদান নেই। প্রতিনিয়ত দরপতনের কবলে পড়ে পুঁজি হারাচ্ছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। প্রতি রাতেই ভাবি সকালে গিয়ে বাজার ভালো দেখতে পাব। কিন্তু লেনদেন শুরুর পর বাজারের চিত্র আর পরিবর্তন হয় না। এভাবে প্রতিনিয়ত শেয়ারের মূল্য কমে নিস্ব হয়ে যাচ্ছি। কিভাবে হারানো পুঁজি ফিরে পাব তার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ সংবাদকে বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের সব থেকে বড় সমস্যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট। এর ফলে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। বিনিয়োগকারীদের আস্থা না ফিরাতে পারলে সহসায় বাজার ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট কমে চার হাজার ৭৭০ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচকের এই পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ১৪৫ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৬২টির। আর ৪৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। গত কয়েক দিনের মতো ডিএসইর লেনদেন তিনশ’ কোটি টাকার ঘরে আটকে রযেছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ বাজারটিতে লেনদেন কমেছে ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। লেনদেন খরার বাজারে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু জুট স্টাফলার্সের ১০ কোটি ৪৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১০ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।

এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, গ্রামীণফোন, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যাল এবং মুন্নু সিরামিক।