• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত ধাপে

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০

image

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হচ্ছে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ উদ্যোগে (জিটুজি) অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত ধাপে উন্নীত হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুটের ভাড়া অফিস পাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা এ অফিস ভাড়া নেয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রদানের নিমিত্ত অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, বেজা ও জাপানের সুমিতোমো করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রায় এক হাজার একর জমির উপর নির্মাণাধীন এই অর্থনৈতিক অঞ্চল আগামী আড়াই বছরের মধ্যে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রস্তুত হবে।

বেজার প্রস্তাবনায় বলা হয়, বেজা) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করার জন্য গত ৫ মার্চ ২০১৯ তারিখে আলোচ্য প্রকল্পটি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।

জিটুজিভিত্তিক এ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নিমিত্ত ২ হাজার ৫৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬২০ একর ভূমি উন্নয়নসহ সব ইউটিলিটি সুবিধাদি উন্নয়ন করা হবে। ওই প্রকল্পের প্রধান প্রধান ভৌত কার্যাদি হলো : ভূমি উন্নয়নসহ মাটির গুণগতমান উন্নয়ন, গ্যাস লাইন স্থাপন ও স্থানান্তরসহ (প্রায় ৯ কি.মি.) গ্যাস স্টেশন (সিজিএস), পানি সরবরাহসহ রিটেনশন পুকুর, পাম্পিং স্টেশন স্থাপন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য স্বতন্ত্র পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ইত্যাদি।

জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট রয়েছে। অনুমোদিত ডিপিপির আওতায় ৪ জন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা (প্রেষণে) এবং ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগের সংস্থান রয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের ভৌত কার্যাদি ডিজাইন, সুপারভিশন মনিটরিংয়ের জন্য ২১ জন বিদেশি এবং ২২ জন স্থানীয় পরামর্শক সমৃদ্ধ একটি জাপানিজ পরামর্শক কোম্পানিকে নিয়োগ প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, অনুমোদিত ডিপিপিতে অফিস ভবন ভাড়া বাবদ ৭২ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। প্রস্তাবিত অফিস ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান প্রকল্পের অন্যান্য অঙ্গ (যথা- অপ্রত্যাশিত ব্যয়, প্রাইস কন্টিনজেন্সি প্রভৃতি) হতে পরবর্তীতে ডিপিপি সংশোধনের সময় সমন্বয় করা হবে।

জাইকার আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়নধীন আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানিজ বিনিয়োগ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমানে ৬২০ একরে সীমাবদ্ধ হলেও প্রকল্প চলাকালীন সময়েই ভবিষ্যতে এটি ১ হাজার একরে উন্নীত করা হবে।

জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নকালীন সময়ে জাপানিজ বিনিয়োগকারীরা প্রকল্প কার্যালয়ে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সভা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন এবং তাদের জন্য ওয়েটিং রুম রাখতে হবে।

বাংলাদেশে জাপানিজ বিনিয়োগ প্রসারের জন্য বর্ণিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং জাপানিজ পরামর্শক বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রকল্পের উন্নয়ন সহযোগী জাইকা কর্তৃক প্রকল্প কার্যালয় বেজা’র কাছাকাছি স্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছে।

প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অফিস ভাড়ার বিষয়ে নিয়মানুযায়ী সরকারি আবাসন পরিদফতরের অধীন বরাদ্দযোগ্য সরকারি কোন ভবন নেই মর্মে ছাড়পত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটসহ দেশি-বিদেশি পরামর্শক দলের সমন্বয়ে বর্ণিত প্রকল্প কার্যালয় স্থাপনের জন্য কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেজা’র অফিস অথবা নিকটবর্তী স্থানে চার ৫ বর্গফুট অফিস ও দুইটি কার পার্কিং সুবিধা (৪০০ বর্গফুট) সহ সর্বমোট চার হাজার ৪০৫ বর্গফুট ভাড়া নেয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রদানের জন্য অর্থ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

এক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটের আনুমানিক ভাড়া ধরা হয়েছে ৬৬ টাকা, সেই সঙ্গে সার্ভিস চার্জ। অর্থাৎ প্রতিমাসে এ অফিস বাবদ ভাড়া দিতে হবে প্রায় ৩ লাখ টাকা।