• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭ ২৯ শাবান ১৪৪২

জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

সংবাদ :
  • নাজমুল হুদা

| ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

image

ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। দেশের যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা নেই, সেসব অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে গ্রাহক। তাই গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১৫ শতাংশ। একই সঙ্গে লেনদেন বেড়েছে ৮২ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনা সংকটের মধ্যে দেশের অর্থনীতি প্রায় বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। তারপরও ভালো সময় পার করছে এজেন্ট ব্যাংকিং খাত। চলতি বছরের এপ্রিল-জুনে এজেন্ট ব্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৫৩ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেন গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮২ শতাংশ বেশি। গত বছরের এপ্রিল-জুনে ২৯ হাজার ৩৩৫ দশমিক ১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭১ জন গ্রাহক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট খুলেছে যা গত বছরের তুলনায় ১১৫ শতাংশ বেশি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, মানুষ ব্যাংকগুলো যখন ধারে কাছে পায় তখন লেনদেন করার জন্য তাদের সময়টাও বাঁচে আবার যেকোন সময় তারা তাদের টাকা উঠাতে পারে। যেসব জায়গায় ব্যাংকের কোন ব্রাঞ্চ থাকে না সেখানে এজেন্টদের মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবা নিতে পারছেন। এর মাধ্যমে মানুষ তার আশপাশ থেকেই যখন খুশি তখন লেনদেন করতে পারছেন। এছাড়া বিদেশ থেকেও মানুষরা রেমিটেন্সের টাকা পাঠাচ্ছেন। ফলে টাকা তোলার জন্য গ্রাহককে গ্রাম থেকে শহরে আসতে হচ্ছে না। গ্রামের আশপাশেই যখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা পাচ্ছে তখন সে ওখান থেকেই টাকা তুলতে পারছে। এতে একদিকে যেমন তার সময় কম লাগছে তেমফন আসা-যাওয়ার টাকাও বেঁচে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও দেখা যায়, বর্তমানে ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর সারাদেশে ব্যাংকগুলোর আট হাজার ৮১২টি এজেন্ট রয়েছে। এর অধীনে ১২ হাজার ৪৪৯টি আউটলেট রয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুন পর্যন্ত ৭২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। কিন্তু ঋণ বিতরণের হার এখনও সন্তোষজনক অবস্থায় পৌঁছেনি। অন্যদিকে এর মাধ্যমে ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করেছে ব্যাংকগুলো। আমানত ও ঋণ বিতরণ ছাড়াও রেমিট্যান্স বিতরণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে এজেন্ট ব্যাংক। জুন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংকটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরফান আলী সংবাদকে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে যেকোন গ্রাহক ব্যাংকিং সেবা নিতে পারেন। বিশেষ করে যারা লেখাপড়া জানে না তারা আঙ্গুলের ছাপ দিয়েই লেনদেন করতে পারেন। এটা তাদের জন্য বড় একটা সুবিধা। এছাড়া কোভিড-১৯ সময়ে যখন অনেক ব্যাংক বন্ধ ছিল তখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষ লেনদেন করেছে। মানুষ এটাকে ব্যবহার করেছে। ব্রাঞ্চে গেলে অনেক লোকজনকে একসঙ্গে জড় হতে হয়। কিন্তু এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সেটা কম। তাছাড়া এখানে লেনদেন করায় মানুষের সময়ও কম লাগে। মানুষ এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিষয়ে বুঝতে পারছে এবং এই সেবাটা গ্রহণ করছে। ফলে গত বছরের চেয়ে এ বছর ডিপোজিট শতভাগ বেড়েছে। সামনের দিনে এটির পরিসর আরও বাড়বে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাংকিংয়ের জন্য একটা নতুন ধারা তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সংবাদকে বলেন, আমাদের দেশে পর্যাপ্ত ব্যাকিং সুবিধা নেই। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের অভাব বেশি। তাই সে সব জায়গায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক সার্ভিস নিতে পারে। কাছাকাছি জায়গা থেকে সহজেই নগদ উত্তোলন করতে পারে। তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নিরাত্তার দিকে ব্যাংকগুলোকে বেশি নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যেক এজেন্টের একটি চলতি হিসাব থাকতে হয়। এ সেবার মাধ্যমে ছোট অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় মুদ্রায় বিতরণ, ছোট অঙ্কের ঋণ বিতরণ ও আদায় এবং এককালীন জমার কাজও করতে পারছেন। উপযোগ সেবা বিল পরিশোধের পাশাপাশি সরকারের অধীনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ প্রদান করতে পারছেন এজেন্টরা। এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ আবেদন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের নথিপত্র সংগ্রহ করতে পারছেন এসব এজেন্ট।