• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ ১৪৪০

চিনি রপ্তানিতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত

সংবাদ :
  • সংবাদ ডেস্ক

| ঢাকা , শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও চিনি রপ্তানি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ভারত। বিশ্ববাজারে দরপতন ও মুদ্রাবাজারে রুপির অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় দেশটির ৫০ লাখ টন চিনি রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি ২০১৮-১৯ মওসুমে দেশটি থেকে ২৫ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টন চিনি রপ্তানি হতে পারে। রয়টার্স।

ভারতে প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে চিনি উৎপাদন মওসুম শুরু হয়। চিনি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পার্থক্য বাড়তে থাকায় মিলাররা নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। বর্তমান ধারা অনুযায়ী, ভারত ২৫ লাখ টন পর্যন্ত চিনি রপ্তানি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভারতের বাজারে প্রতি টন চিনি ২৯ হাজার ২০০ রুপিতে (৪১৪ ডলার) বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পণ্যটি রপ্তানি করতে হচ্ছে টনপ্রতি ১৯ হাজার রুপিতে। ডলারের বিপরীতে রুপির শক্তিশালী অবস্থানও ভারতীয় চিনি রপ্তানিকারকদের বিপাকে ফেলেছে। রুপির বিনিময় মূল্য বাড়ার কারণে ভারতীয় চিনি উৎপাদকদের লাভ কমে এসেছে। এ কারণে তারা চিনি রপ্তানিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। গত অক্টোবরেই ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় মূল্য ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় মূল্য ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন। ওই সময়ে প্রতি ডলার ৭৪ দশমিক ৪৮ রুপিতে হাতবদল হয়েছিল। চার ব্যবসায়ী জানান, গত ১ অক্টোবর উৎপাদন মওসুম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতের মিলগুলো ১৪ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি করেছে। এরই মধ্যে এসব মিল ৬ লাখ ৫০ হাজার টন চিনির চালান পাঠিয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, চলতি মওসুমে ভারত সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টন চিনি রপ্তানি করতে পারে। তিন সরকারি কর্মকর্তার মুখেও একই কথা শোনা গেছে। তবে কেও কেও অবশ্য ভারতের চিনি রপ্তানি নিয়ে আশাবাদী। ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএমএ) প্রেসিডেন্ট রোহিত পাওয়ার বলেন, আগামী মাসগুলোয় রপ্তানি বাড়তে পারে। আমি আশা করি, আমরা ৩৫ লাখ টনের বেশি চিনি রপ্তানি করতে পারব। এজন্য মিলারদেরও সক্রিয় হতে হবে। একইসঙ্গে সরকারকেও সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করতে হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও চিনি রপ্তানি বৃদ্ধিতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চিনি উৎপাদকদের সংগঠন ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকাশ নেইকনভারে বলেন, মহারাষ্ট্রে ব্যাংক মিলারদের মজুদের বিপরীতে ঋণ নেয়ার সময় ঘোষিত দামের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রি করতে দিচ্ছিল না। তবে পরে সরকারি হস্তক্ষেপে ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে অনুমোদন দেয়। ভারতে সাধারণত আখ মাড়াইয়ের পর পরই কৃষকদের মূল্য পরিশোধে মিলাররা ব্যাংকের কাছ থেকে চিনির মজুদের বিপরীতে ঋণ নেয়। স্থানীয় বাজারে চিনির মূল্য ধরে এ ঋণ দেয়া হয়। উল্লেখ্য, ভারত চিনির অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক। ২০১৭-১৮ মওসুমে দেশটিতে ৩ কোটি ২৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন হয়েছিল। চলতি মওসুমে দেশটিতে ৩ কোটি ১৫ লাখ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টন পর্যন্ত চিনি উৎপাদন হতে পারে। এর বিপরীতে ভারতে চিনির চাহিদা ২ কোটি ৬০ লাখ টন।