• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১

চার শতাংশে নেমেছে সুদ হারের পার্থক্য

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

image

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আমানত ও ঋণের সুদ হারের পার্থক্য (স্প্রেড) কমে এসেছে পুরো ব্যাংকিং খাতের। তবে সার্বিকভাবে আমানত ও ঋণের সুদ হারের পার্থক্য কমলেও নির্ধারিত সীমার উপরেই রয়েছে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক।

তথ্য অনুযায়ী, আাগের মাসেও (জুলাই) ব্যাংক খাতের গড় ঋণ-আমানত অনুপাত হারের পার্থক্য ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। তবে আগস্ট মাসে এই হার নেমেছে ৪ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আমানত-ঋণের সুদহারের পার্থক্য ২ দশমিক ১৯ শতাংশ, বিশেষায়িত ব্যাংকের ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকের ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং বেসরকারি ব্যাংকের ৪ দশমিক ১২ শতাংশ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গড় স্প্রেড হার কমলেও অধিক সুদে আমানত সংগ্রহ করছে ব্যাংকগুলো। ঋণ বিতরণ করছে তুলনামূলক আগের চেয়ে বেশি সুদে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং খাতে ডিপোজিট বা আমানতের সংকট এখনও বিদ্যমান। তাই আমানত সংগ্রহে বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে আমানতের বিপরীতে সরকারি ব্যাংকেগুলো গড়ে ৪.৩১ টাকা ব্যাংক খরচ করছে। অন্যদিকে ঋণের বিপরিতে সুদ নিচ্ছে গড়ে ৬.৬৮ টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহের সুদ হার ৫.৭১ টাকা এবং ঋণের বিপরীতে সুদ হার ৭.৫৬ টাকা। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে আমানত ও ঋণের সুদ হার যথাক্রমে ২.৪৫ ও ৯.৪৮ টাকা। ৪০টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ৪ শতাংশীয় সীমানার বাইরে রয়েছে ২২টি ব্যাংক। সার্বিকভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড হার ৪.১৬ শতাংশ। এদের মধ্যে ৫টি ব্যাংক অবস্থান করছে নির্ধারিত স্প্রেড সীমার অনেক উপরে। সেগুলো হলো ডাচ বাংলা ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সীমা যথাক্রমে ৮.৫২, ৫.২৩, ৫.০৫, ৫.৬২ এবং ৫.৬৮ শতাংশ।

এর আগে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আভাস দিয়েছিলেন, এই হার কমানো হবে। তিনি বলেন, সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন না হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ যারা ব্যাংকের লাইসেন্স দিতে পারে তারা বাতিলও করতে পারে। সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন আইনি কাঠামোর মধ্যেই সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে ব্যাংকগুলো। নির্দেশনা না মানলে তখন তারা শাস্তির আওতায় আসবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সার্বিক ব্যাংক খাতের স্প্রেড বেড়েছে দশমিক ১০ শতাংশ। মে মাসে ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ স্প্রেডের বিপরীতে জুন মাসে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশে। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও সুদের হারের (ভারীত গড়ে) পার্থক্য বেড়েছে দশমিক ১৭ শতাংশ। চলতি বছরের জুন মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্প্রেড হয়েছে ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। মে মাসে যা ছিল ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। জুন মাসে মে মাসের তুলনায় আমানতে সুদের হার (ভারীত গড় হিসাবে) কমিয়েছে ব্যাংকগুলো। জুন মাসে পূর্বের মাসের তুলনায় আমানতে সুদহার কমেছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতে সুদের হার বাড়িয়েছে বড় আকারে। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতে সুদহার বাড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর্থিক খাতে নগদ অঙ্কের সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় আমানত আকৃষ্ট করতে সুদহার বাড়িয়ে চলেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। জানা গেছে, পিপলস লিজিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়াও আমানতের সুদহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।