• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবন ১৪২৫, ১৮ জিলকদ ১৪৪০

চার কোটি মানুষকে করের আওতায় আনা হবে : অর্থমন্ত্রী

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

image

পর্যায়ক্রমে চার কোটি মানুষকে করের আওতায় আনা হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় রাজস্ব কার্যালয় চালু করা হবে। আগামী পহেলা জুলাই থেকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। কোন জায়গায় ভ্যাট বাড়ানো হবে না। বরং অনেক স্থানেই ভ্যাট কমে আসবে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রয়োজন। গত বুধবার সন্ধ্যায় শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইটিআইএনধারীর (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) ৪০ লাখের মতো এবং তাদের মধ্যে কর দেন ১৫ লাখের মতো। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ০১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। কোন জায়গায় ভ্যাট বাড়ানো হবে না। বরং অনেক স্থানেই ভ্যাট কমে আসবে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রয়োজন। কর নেটের আওতা বাড়ানো হবে। করের আওতা বাড়াতে গিয়ে আমরা আউটসোর্সিং করব। পাশাপাশি প্রতি উপজেলায় কর অফিস চালু করা হবে। যেখানে গ্রোথ সেন্টার বেশি হবে সেখানে একাধিক কর কার্যালয় স্থাপন করা হবে। কর প্রদানে মানুষকে যেন কোন ধরনের হয়রানি বা কষ্ট করতে না হয় সে ব্যবস্থা চালু করা হবে। যোগ্যদের করের আওতায় আনতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সামনের দিনে ব্যাংক সুদের হার যৌক্তিক করা হবে। ভ্যাট আইনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনযোগ্য। আইন বাস্তবায়নের পরও যদি কোথাও কোন সীমাবদ্ধতা দেখা দেয় তাহলে তা পরিবর্তন করা হবে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে ঝামেলাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ভ্যাট কোন পণ্যে ভ্যাট বাড়বে না বরং কমবে। তবে আমরা ভ্যাটের আওতা বাড়াবো। আমরা সব কিছুই সুন্দরমতো করব।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ট্যাক্স জিডিপির অনুপাত সারাবিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। আমরা এটি বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। করহার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে। এছাড়া ব্যাংক আমনতের ওপর আবগারি শুল্কহার বাড়ানো যৌক্তিক হয়নি। এছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটালকে আরও বেশি গতিশীল করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্প্রসারণে আরও উদ্যোগের প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে সরকারের সেবা পৌঁছাতে হলে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। এছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কে আরও বেশি গতিশীল করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সম্প্রসারণে আরও উদ্যোগের প্রয়োজন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে সরকারের সেবা পৌছাতে হলে এসব খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।

এনবিআরের তথ্যমতে, ২০১৪ সালে করদাতার সংখ্যা ছিল ১২ লাখ। ২০১৭ সালে করদাতা ছিল ৩২ লাখ। ২০১৮ সালে তা হয়েছে ৩৮ লাখ হয়েছে। মাত্র ৪ বছরে করদাতার সংখ্যা তিনগুণের বেশি হয়েছে। প্রকৃত কর আদায় ১০ বছরে পাঁচগুণ হয়েছে। রিটার্ন দাখিল গত দুই বছর ধরে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ছে। সক্রিয় করদাতা এখন ১৫ লাখ।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থ বিভাগের সচিব আবদুর রউফ, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাপরিচালক ও পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।