• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ২২ জিলকদ ১৪৪১

চলতি সপ্তাহে পুঁজিবাজারে আসছে আরও ৭ ব্যাংকের বিনিয়োগ

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ১৫ মার্চ ২০২০

image

চলতি সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে সক্রিয় হচ্ছে আরও ৭ ব্যাংক। এছাড়া আজ থেকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শুরু করবে জনতা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক। এর বাইরে এ সপ্তাহের মধ্যে আরও ৫ ব্যাংক বিনিয়োগে সক্রিয় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকগুলো হলো- এনসিসি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংক। চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভা নির্ধারিত রয়েছে। এসব সভায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হবে।

ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ৬ ব্যাংক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ শুরু করেছে। এগুলো হলো- সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইউসিবিএল ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। সিটি ব্যাংক ছাড়া সবগুলো ব্যাংক নিজস্ব তহবিল হতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। সিটি ব্যাংক পূর্বের নেয়া ৫০ কোটি টাকা বিশেষ তহবিলে রূপান্তর করেছে। এ সপ্তাহে ব্যাংকটির বিনিয়োগ আরও বাড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ তহবিলের সার্কুলার জারির এক মাসের মাথায় গত ১০ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তফসিলী ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে তহবিল গঠনের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ তহবিল এক মাসেও কোন ব্যাংক গঠন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ওই দিনই বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়।

জানা যায়, জনতা ব্যাংক গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিশেষ তহবিলের ২০০ কোটি টাকা গ্রহণ করেছে। জনতা ব্যাংকই প্রথম ব্যাংক যেটি বিশেষ তহবিল হতে পুরো অর্থ গ্রহণ করলো। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংক নিজস্ব তহবিল হতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে।

এদিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তাগাদা দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা যোগাযোগ করছেন। সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস (বৃহস্পতিবার) বাজারে আবারও বড় পতন দেখা দেয়। ওইদিনই বিকেল থেকে কর্মকর্তারা তদারকি আরও বাড়িয়েছেন।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। এ তহবিল হতে পাঁচ শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলো ২০০ কোটি টাকা নিতে পারবে। ব্যাংকগুলো অর্থ পরিশোধে সময় পাবে পাঁচ বছর। আর সর্বোচ্চ সাত শতাংশ সুদে ব্যাংকগুলো এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, প্রত্যেকটি তফসিলি ব্যাংককে ২০০ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। সে হিসাবে মোট ৬০টি তফসিলি ব্যাংককে ১২ হাজার কোটি টাকা দেয়া হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকসমূহ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত যে কোন কার্যদিবসে রেপোর মাধ্যমে বর্ণিত ২০০ কোটি টাকার সীমার মধ্যে যে কোন অঙ্কের তহবিল বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সংগ্রহ করতে পারবে।

রেপোর সুদের হার ৫ শতাংশ নির্ধারিত থাকবে এবং কোন প্রকার অকশনের প্রয়োজন হবে না।

তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজার সংক্রান্ত সাবসিডিয়ারির ক্ষেত্রে এরূপভাবে গঠিত পোর্টফোলিও’র বাজারভিত্তিক পুনঃমূল্যায়ন ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে এবং ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ আর্থিক বিবরণীতে প্রকাশ করতে হবে। পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্য মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) সংশ্লিষ্ট মূল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করবে। বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, নিজ ব্যাংকের কোন শেয়ার ক্রয় করা যাবে না। অন্য কোন তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন অন্য কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি নয়, এরূপ মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) কর্তৃক কোন ব্যাংক কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উক্ত কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না।

মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইউনিটের ১০ শতাংশ এবং বেমেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মোট ইউনিটের ১৫ শতাংশের বেশি ক্রয় করা যাবে না। মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউজ (ডিলার) কর্তৃক একাধিক ব্যাংক হতে এই বিশেষ তহবিলের আওতায় ঋণ গ্রহণ করলে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক ব্যাংক ও বিও হিসাব খুলতে হবে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদানুযায়ী যে কোন সময় বিও হিসাব সংশ্লিষ্ট সমুদয় তথ্য ও দলিলাদি বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল করতে বাধ্য থাকবে’- এ মর্মে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার কাছে থেকে অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান সংবাদকে বলেন, ব্যাংকগুলো এতদিন যে নীরবতা পালন করেছে সেটি আর উল্লেখ করতে চাই না। আশা করি এখন থেকে তারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য কোন শর্ত ছাড়াই ৫ বছরের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করে বাজারকে সহায়তা করবে।