• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভা

খেলাপি ঋণ নবায়নে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ মে ২০১৯

ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিল করা সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার খসড়াটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এ খসড়াটিতে আরও কিছু সংশোধনী আনা হবে। বিশেষ করে ঋণ পরিশোধ ও সুদের হার নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপত্তি আছে। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ পর্ষদ সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় নীতিমালাটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। এটি অনেক বড় বিষয়। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই পারে। তারা এটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি নির্ভুল ও সবার জন্য ভালো সার্কুলার জারি করুক, সেটাই আমরা চাই। তবে এ নীতিমালাটি আগামী বাজেট ঘোষণার আগেই সার্কুলার আকারে জারি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খসড়া নীতিমালাটিতে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দফায় দফায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ পরিবর্তন অনুযায়ী, কোন খেলাপি যদি এক বছরের মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধ করে দেন তাহলে ঋণের সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে খেলাপিকে ছয় মাসের মধ্যে পুরো ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে হবে। যদি কোন কারণে তিনি পুরো ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে আরও ছয় মাস সময় পাবেন। এই এক বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ পুরোপরি পরিশোধ করতে না পারলে তিনি আর ৯ শতাংশ সুদে খেলাপি ঋণ নবায়নের সুবিদা পাবেন না। তখন এর সঙ্গে আরও ২ শতাংশ সুদ যোগ করে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর আগে ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটি ৭ শতাংশ সুদ নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক এতে মতামত দিয়ে বলে, ৭ শতাংশ সুদ আরোপিত হলে ব্যাংকের জন্য সমস্যা হবে। এটি ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ডের ভিত্তিতে নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। পরে অর্থমন্ত্রী এই হার ৭ শতাংশ থেকে আরও ২ শতাংশ বাড়িয়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণের কথা জানান। এটি নিয়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আপত্তি করা হয়। যে কারণে সার্কুলারটি এখনো হচ্ছে না।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো খসড়া নীতিমালায় বলা হয়, সব ধরনের ঋণখেলাপিরাই নতুন নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ নবায়নের সুযোগ পাবেন। এর জন্য নীতিমালা জারি হলে ঋণখেলাপিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক এটি আগে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতো। এবার বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে না। খেলাপি ঋণ নবায়নের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি। ব্যাংকগুলোকে ওই আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভা শুরুর পূর্বনির্ধারিত সময় ছিল বুধবার বিকেল ৩টা। কিন্তু গভর্নরসহ অন্য পরিচালকরা সাড়ে ৩টার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছান। পরে বিকেল ৪টায় পর্ষদের সভা শুরু হয়ে তা ৫টার আগেই শেষ হয়ে যায়। সংক্ষিপ্ত ওই পর্ষদ সভায় নিয়মিত কয়েকটি বিষয় আলোচনা হলেও বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালাসহ অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।