• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ মহররম ১৪৪২, ০৯ আশ্বিন ১৪২৭

ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত টাকা ও শেয়ার ফিরে পাবেন : ডিএসই

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২০

image

গুটিয়ে যাওয়া ব্রোকারেজ হাউজ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ক্রেস্টের গ্রাহকরা দ্রুতই তাদের শেয়ার ও টাকা ফিরে পাবেন। ব্রোকারেজ হাউজটির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হয়েছে এবং এর মালিকের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পথও বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই সভাপতি।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে ঢাকার পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ গুটিয়ে এর মালিক শহিদ উল্লাহ সম্প্রতি লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্রোজারেজ হাউজের গ্রাহকরা। সংকটকালে তাদের শেয়ার ও অর্থ আটকে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন তারা। ব্রোকারেজ হাউজটির অধীনে প্রায় ২১ হাজারের মতো অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তাতে যে শেয়ার রয়েছে, তার বাজার মূল্য ৮২ কোটি টাকার মতো।

এই পরিস্থিতিতে গত রোববার জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আসেন ডিএসই সভাপতি ছানাউল। তিনি বলেন, বিষয়টিকে আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিনিয়োগকারীদের শেয়ার এবং টাকা তাদের কাছে ফিরিয়ে দেব। এটা আমাদের জন্য একটা এসিড টেস্ট। আমরা বিষয়টি দ্রুত শেষ করে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। আমরা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তাদের পাওনার ব্যাপারে তথ্য চাচ্ছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের কাছে তথ্য পাঠান, আমরা যত দ্রুত সম্ভব, সব কিছু শেষ করতে চাই। গত রোববার বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, তারা আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা সিডিবিএলের (সেন্ট্রাল ডিপসেটরি বাংলাদেশ লিমিটেড) কাছে যে তথ্য পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে, এই ব্রোকারেজ হাউজে প্রায় ২১ হাজারের মতো অ্যাকাউন্ট আছে। আর এরমধ্যে যে শেয়ার আছে, তার বাজার মূল্য ২৫ জুনের হিসাব অনুয়ায়ী ৮২ কোটি টাকা। আমরা ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখছি, তাদের সম্পদের পরিমাণ কত, তাদের দেনা কত এবং তাদের কাছে কী পরিমাণ সম্পদ আছে। তাদের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের টাকা বুঝিয়ে দেব। এর বাইরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যে শেয়ারটা সিডিবিএলে আটকানো আছে, সেটার ভ্যালু আছে ১০ কোটি টাকার উপরে। প্রয়োজন হলে সেটাও আমরা সেল করে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পাওনা মিটিয়ে দেব।

এছাড়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের মালিকের বিদেশে পালানোর পথ বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসই সভাপতি। তিনি বলেন, আমরা পল্টন থানায় সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে অভিযোগ করেছি। যেহেতু ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের অফিস পল্টন থানায়। পাশাপাশি অভিযোগের একটি কপি আমরা ইমিগ্রেশন অফিসে পাঠাই যেন এর সঙ্গে জড়িতরা দেশের বাইরে না যেতে পারে। গত ২৩ জুন খবর পাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়। ২৪ তারিখে তাদের লেনদেন বন্ধ করে দিই। আমরা বিষয়টি সিডিবিএলকে জানাই যেন তারা আর লেনদেন করতে না পারে। আমরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে পত্র মারফত বিষয়টি জানাই এবং ব্যাবস্থা নিতে অনুরোধ করি। আমাদের চিঠির পরে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আমাদের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায় এবং অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য তারা চিঠি লেখে। এর বাইরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আমরা ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের পরিচালকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাই।