• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ জিলকদ ১৪৪১

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ১৪ খাত

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , রোববার, ০১ মার্চ ২০২০

image

সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ১৪টি খাত করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পোশাক খাতের অ্যাক্সেসরিজ, প্রসাধন, বৈদ্যুতিক পণ্য, পাট সুতা, মুদ্রণ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, চশমা, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক পণ্য, কাঁকড়া ও কুঁচে এবং প্লাস্টিক শিল্পসহ মোট ১৩ খাতের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানি সংকুচিত হওয়ায় কয়েকটি খাতে কমপক্ষে ৬০০০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাঁচামালের অভাবে দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার উৎপাদন সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইভাবে কমে আসছে আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ। ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া কিছু পণ্যের সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিতে পারে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ১৪টি খাত করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মধ্যে প্রতিবেদনে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পোশাক খাতের অ্যাক্সেসরিজ, প্রসাধন, বৈদ্যুতিক পণ্য, পাট সুতা, মুদ্রণ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম, চশমা, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক পণ্য, কাঁকড়া ও কুঁচে এবং প্লাস্টিক শিল্পসহ মোট ১৩ খাতের ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর গণমাধ্যমকে বলেন, যারা ভ্যালু চেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা গত দুই মাস ধরেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। সেটা আগামী দুই মাসের মধ্যে বোঝা যাবে। অনেক প্রতিষ্ঠানের টেকনেশিয়ানরা চীনের নাগরিক। এখন চীন থেকে টেকনেশিয়ানরা আসতে পারছেন না। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠান এখন চলছে না। একইভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সরকারের বড় প্রকল্পগুলোও সময়মতো শেষ করতে পারবে না।

জানা গেছে, দেশের শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য থেকে শুরু করে যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ এবং নিত্য ব্যবহার্য নানা পণ্যের বড় উৎস চীন। ওষুধের কাঁচামালের একটি বড় অংশ চীন থেকে আসে। গত এক সপ্তাহে এলসি খোলার হার প্রায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত কাঁচামালের দামও বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে ক্ষতির মুখে পড়বে কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ খাতও। কারণ, চীন থেকে আগে প্রতি মাসে এই খাতে আনুমানিক ৯০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

ট্যারিফ কমিশন জানিয়েছে, ওভেন পোশাকের ৬০ শতাংশ বস্ত্র আসে চীন থেকে। আর নিট পোশাকের ১৫-২০ শতাংশ কাঁচামাল এবং ডাইংয়ের রাসায়নিকের বড় উৎস চীন। এছাড়া বাংলাদেশের চামড়া, পাট, কাঁকড়াসহ কিছু পণ্যের বড় রপ্তানি বাজার চীন। চামড়া খাতে সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ হাজার কোটি টাকা। ইলেকট্রনিক পণ্যের ৮০ শতাংশ আসে চীন থেকে। করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, বস্ত্র ও বস্ত্রজাতীয় পণ্য, গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজসহ বিভিন্ন উপকরণে চীনের ওপর নির্ভরতা প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া অন্তত ৪০ শতাংশ যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশও আনতে হয় চীন থেকে।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ’র সভাপতি রুবানা হক বলেন, এক কথায় আমরা আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছি। এরই মধ্যে সব ধরনের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ও পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এমনকি ডাইংয়ের খরচও বাড়ছে অযাচিতভাবে। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে একটি সেল খোলা হয়েছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার ক্ষতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যদি চীন থেকে পণ্য আসা শুরু না হয়, তাহলে আমাদের বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।

চীনের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা করা কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এখন। নতুন কোন এলসিও (ঋণপত্র) খোলা যাচ্ছে না। ফলে কাঁচামালের অভাবে শীঘ্রই অনেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষের দিকে চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তারপর থেকেই চীনের সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে অন্য যে কোন দেশের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের আঘাত পাবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের মোট আমদানির ২৫ শতাংশেরও বেশি আসে চীন থেকে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের মোট বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৪ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৮৩ কোটি ডলার।