• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ২৩ জিলহজ ১৪৪১, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

করোনা ঝুঁকিতে এশিয়ার এক কোটি মানুষ

    সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • | ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে আছে বিশ্ব অর্থনীতি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব পড়বে। বিশ্বব্যাংকের একটি তথ্য বলছে, করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রেহাই পাবে না এই অঞ্চলের প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষ। তারা দারিদ্র্যতার শিকার হবে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি গতকাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এ পরিস্থিতিতে প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংক্ষিপ্ত পূর্বাভাস দেয়ার কাজটা খুব কঠিন। তবে চলমান পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, ২০২০ সালে উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে, এমনকি তা ঋণাত্মক (মাইনাস) ০ দশমিক ৫ শতাংশও হতে পারে। অথচ ২০১৯ সালে এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে প্রবৃদ্ধির গতি কমে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। ২০১৯ সালে চীনে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২০ সালে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার পূর্বাভাষ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কমে যাবে। দুই কোটি ৪০ লাখের মধ্যে তা থমকে যেতে পারে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ পর্যায়ে পৌঁছালে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাবে এক কোটি ১০ লাখ মানুষের।

বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিয়েছে এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যন্ত্রণা এড়ানো সম্ভব নয়। সে কারণে সব দেশকে জোটবদ্ধভাবে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাজনিত সক্ষমতা খাতে এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোকে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক তার রিপোর্টে বলেছে, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তাতে করে সব দেশই তাৎপর্যপূর্ণভাবে আক্রান্ত হবে। এতে করে যেসব পরিবারের জীবিকা শিল্প-কারখানার ওপর নির্ভরশীল, তারা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এটা তাদের জন্য অশনি সংকেত।

‘থাইল্যান্ডের পর্যটনখাত এবং ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়বে।’

বিশ্বের শীর্ষ এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যানুযায়ী, তাদের দৈনিক আয় সাড়ে পাঁচ মার্কিন ডলারের নিচে তারাই দরিদ্র।

করোনার করুণ দৃশ্যপট তুলে ধরে বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কা, বিশ্বের প্রায় ৩৫ মিলিয়ন (সাড়ে তিন কোটি) মানুষ দারিদ্র্যতায় পতিত হবে। করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ২৫ মিলিয়নে।

বিশ্বব্যাংকের অনুমান, করোনাভাইরাসের কারণে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে যাবে।

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। বর্তমানে চীনে এর দাপট শেষ হলেও ইউরোপ ও আমেরিকায় তা ভয়াবহ প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৭ হাজার ৮১৪ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাত লাখ ৮২ হাজার ৩৬৫ জন। এদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৬৫ হাজার ৬০৬ জন।