• banlag
  • newspaper-active
  • epaper

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ জিলকদ ১৪৪১

এডিআরের মাধ্যমে ১৪২ কোটি টাকার রাজস্ব আয়

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

| ঢাকা , রোববার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

image

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে ১৬টি মামলা নিষ্পত্তি করে ১৪২ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ করেছে। এর আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এলটিইউ ৮টি মামলা নিষ্পত্তি করে মাত্র ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছিল।

এ বিষয়ে ভ্যাট এলটিইউ কমিশনার মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর বলেন, বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য এডিআরে ১৬টি আবেদন দাখিল করা হয়। ভ্যাট এলটিইউ এবং করদাতা দু’পক্ষের সম্মতিতে এর সব ক’টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া এই ১৬ মামলা থেকে ১৪২ কোটি ১২ লাখ টাকার আয় এসেছে।

তিনি বলেন, আদালতের বাইরে গিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য আমরা এডিআরে আবেদন করি। এর সুফলও পেয়েছি। স্বল্পতম সময়ের ব্যবধানের সবগুলো মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে প্রত্যাশিত রাজস্বও এসেছে।

এডিআর পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, এশিয়ান পেইন্টস (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ল্যাবএইড মেডিক্যাল সেন্টার গুলশান লিমিটেড, ইটাফিল (বাংলাদেশ) লিমিটেড, মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড, ইটাফিল এক্সেসরিজ লিমিটেড, এইচপি কেমিক্যালস লিমিটেড ও মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআর সদস্য (ট্যাক্স লিগ্যাল ও এনফোর্সমেন্ট) হাফিজ আহমেদ মুর্শেদ বলেন, আইন অনুযায়ী করদাতাদের এডিআর পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করতে হয়। এমন সহজ সুযোগ দেয়ার পরও তারা না এলে আমাদের কিছু করার থাকে না। যারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন তারা আদালতে নিষ্পত্তি করতে বেশি উৎসাহী। যারা আদালতে সুবিধা করতে পারেন না তারাই এডিআর পদ্ধতিতে আসছেন। এডিআর পদ্ধতিতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এডিআর এমন একটা পদ্ধতি, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তির উপস্থিতিতে আদালতের ভেতরে বা বাইরে বসেও বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। আদালতের বাইরে গিয়ে এনবিআর ও করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান মামলা নিষ্পত্তির একটি পদ্ধতি হচ্ছে এডিআর। এডিআরের মাধ্যমে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে ৯০ দিন। উকিলের খরচ লাগে না বললেই চলে। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হয়। যদি কোন মামলা এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে মামলাটি আদালতে চলে যায়। অন্যদিকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি মামলা শেষ হতে সময় লাগে ছয় থেকে সাত বছর। এতে প্রচুর অর্থ অপচয় হয়। হয়রানিও কম হয় না। এই ব্যবস্থায় এক পক্ষ জেতে, আরেক পক্ষ হারে। কিন্তু তাতে কি আদৌ বিরোধ নিষ্পন্ন হয়? তাই মামলার জট না বাড়িয়ে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা শ্রেয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে এডিআর দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এডিআর পদ্ধতিতে একজন নিরপেক্ষ ফ্যাসিলেটেটর (মধ্যস্থতাকারী) দু’পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেন। উভয় পক্ষ এ রায় মানলে বিরোধটি নিষ্পত্তি হয়। আর কোন এক পক্ষের আপত্তি থাকলে তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এ পদ্ধতির সুফল হচ্ছে স্বল্প সময়ে মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি। কিন্তু আদালতের মাধ্যমে কোন মামলা নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে গঠিত এডিআরে মোট ৪ জন ফ্যাসিলেটেটর আছেন। তারা এনবিআর ও করদাতা এই দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে মামলা নিষ্পত্তি করেন।